চাকরিহারা শিক্ষকদের বড় জয়, মিলবে বছরে দেড় লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ!
বার্তা ডেস্কঃ
দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই শেষে অবশেষে বিচার পেলেন দুর্গাপুরের চাকরিহারা শিক্ষকরা। দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট (DSP) কর্তৃপক্ষের অধীনস্থ বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলের ছাঁটাই হওয়া শিক্ষকদের বড় অঙ্কের বকেয়া ক্ষতিপূরণ ও সুদ মেটানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ ঐতিহাসিক এই রায় দেয়। নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক শিক্ষককে তাঁদের কাজের সময়কাল বিচার করে প্রতি বছরের জন্য ১.৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে এই অর্থের ওপর ৬ শতাংশ হারে বার্ষিক সুদও দিতে হবে কর্তৃপক্ষকে। আদালত ডিএসপি প্রশাসনকে এই টাকা মেটানোর জন্য ৪৫ দিনের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে টাকা না দিলে আরও ৬ শতাংশ অতিরিক্ত জরিমানা/সুদ গুনতে হবে সংস্থাকে।
ঘটনার সূত্রপাত দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের পরিচালিত কয়েকটি স্কুলকে ঘিরে। প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক ধরে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি মাধ্যমে চলা এই স্কুলগুলি ২০১৫ সালে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তার আগেই শিক্ষক ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। ২০০৯ সালে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে পার্শ্বশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এই শিক্ষকদের দৈনিক বেতন ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০০ টাকা হয়েছিল। তবে একপর্যায়ে তাঁদের কাজ থেকে সরিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।
চাকরি হারিয়ে ১৬ জন শিক্ষক আইনি লড়াইয়ে নামেন। প্রথমে সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালে (CAT) মামলা করলেও ২০২৫ সালে তাঁদের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপর ট্রাইব্যুনালের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শিক্ষকরা।
মামলাকারীদের আইনজীবী উদয়শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় জানান, ২০১৫ সালে স্কুল বন্ধ হওয়ার আগে শিক্ষকদের যার যত বছর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, সেই অনুসারেই এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারিত হবে। এখন দেখার বিষয়, হাইকোর্টের দেওয়া ৪৫ দিনের নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে ডিএসপি কর্তৃপক্ষ সুদে-আসলে এই পাওনা মেটায় কি না।