ভোট চুরি নয়, আপনাদের ব্যর্থতাই আসল কারণ!

বার্তা ডেস্কঃ

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন বড়সড় ভোট চুরি করছে—বিরোধীদের এই বিস্ফোরক অভিযোগে যখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তাল, ঠিক তখনই কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের জবাবে শাহ সরাসরি কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের নির্বাচনী ব্যর্থতা এবং সংগঠনের দুর্বল চিত্রটি তুলে ধরেন।

রাজ্য ধরে ধরে কংগ্রেসের ব্যর্থতার হিসাব দিলেন শাহ

বিরোধীরা যখন নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আন্দোলন জোরদার করছে, তখন অতীতের নির্বাচনী পরিসংখ্যান টেনে কংগ্রেসকে এক হাত নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অমিত শাহ কটাক্ষের সুরে বলেন, “কংগ্রেস দলকে বলব, আমরা ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসেছি। কিন্তু তামিলনাড়ুতে ১৯৬৬ সাল থেকে আপনাদের কোনো মুখ্যমন্ত্রী নেই। পশ্চিমবঙ্গে ৪৯ বছর, সিকিমে ৪২ বছর, উত্তরপ্রদেশে ৩৭ বছর, বিহারে ৩৬ বছর, গুজরাতে ৩০ বছর, ওড়িশায় ২৬ বছর, নাগাল্যান্ডে ২৩ বছর, মহারাষ্ট্রে ১২ বছর এবং ত্রিপুরায় ৩৩ বছর ধরে আপনারা ক্ষমতার বাইরে। যদি শুধু ভোট চুরির কারণেই দলগুলি ক্ষমতায় আসতে না পারে, তবে বলব—ভোট চোরের তো আপনাদের পাশেই বসে আছে! ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্য দলগুলোর নেতারা তো এই রাজ্যগুলোতে কমবেশি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।”

রাহুলের নেতৃত্বেই ‘ইন্ডিয়া’ জোটে ভাঙন নিশ্চিত: শাহ

কংগ্রেসের বর্তমান নেতৃত্ব ও দলীয় কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলে অমিত শাহ বলেন, দলের এবার আত্মসমীক্ষার সময় এসেছে। তাঁর দাবি, রাহুল গান্ধী যখন থেকে দলের প্রধান মুখ হয়েছেন, তখন থেকেই দেশের মানুষ বারবার কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বেই অদূর ভবিষ্যতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র অন্দরে ভাঙন অনিবার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনৈতিক বিতর্কের মোড় ঘোরাতেই কি এই মন্তব্য?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীরা যখন দেশজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে কংগ্রেসের খরা কাটেনি এমন রাজ্যগুলোর প্রসঙ্গ তুলে রাজনৈতিক বিতর্কের মোড় ঘোরাতে চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিজেপির দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী, নির্বাচনী ময়দানে শোচনীয় পরাজয়ের পর নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এবং দায় এড়াতে প্রায়শই ইভিএম বা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায় কংগ্রেস ও তাদের সমমনোভাবাপন্ন দলগুলি। শাহের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই পুরনো বিতর্ককেই ফের উসকে দিয়েছে।

ভোটার তালিকা সংশোধন ও বিরোধীদের লড়াইয়ের হুংকার

এদিকে বিরোধী শিবির সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিছক রাজনৈতিক নয়। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার তথা ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ তাদের। যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়া রোধ করতে এবং স্বচ্ছতা আনতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলনও চালিয়ে যাওয়ার হুংকার দিয়ে রেখেছে বিরোধীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *