হাইকোর্টে বড় ধাক্কা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের, ফের ধাক্কা খেলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড!
বার্তা ডেস্কঃ
দুর্গাপুজোর আনন্দমুখর আবহেই কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় আইনি ধাক্কার মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশি নোটিশের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আদালতের স্পষ্ট বার্তা, এই মুহূর্তে এই মামলার জরুরি ভিত্তিতে শুনানি করা সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার হাইকোর্টের শুনানিতে তৃণমূল সাংসদের আইনজীবী অভিযোগ তোলেন যে, তদন্তকারী আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদের বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য এবং পুলিশি তদন্তের খুঁটিনাটি বারবার গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর যৌক্তিকতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি অবিলম্বে আইনি সুরক্ষা ও নিরাপত্তার আর্জি জানানো হয়। তবে এই সমস্ত যুক্তির পরেও বিচারপতি ভট্টাচার্য মামলার জরুরি শুনানির আবেদন মঞ্জুর করেননি।
উল্লেখ্য, এর আগে এই মামলা থেকে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়িয়েছিলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। পরবর্তীতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন অভিষেক। প্রধান বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ীই বিচারপতি ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটি দায়ের করার অনুমতি মিলেছিল।
ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের কার্যালয়ের সামনে বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনাকে ঘিরে। সেই সময় কলকাতা পুরসভা এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে রীতিমতো হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। এই বিশৃঙ্খলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনটি পৃথক এফআইআর রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ওই ঘটনার প্রেক্ষিতেই রবিবার বিকেলে তৃণমূল সাংসদের কালীঘাটের বাসভবনে গিয়ে হাজির হন শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ আধিকারিকরা এবং তাঁকে তলবের নোটিশ দেন। সোমবার সকালেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল।
তবে সেই তলব এড়িয়ে থানায় ইমেল পাঠিয়ে অভিষেক জানান যে, মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য তাঁর অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন। এরপরই পুলিশের একটি দল পুনরায় তাঁর বাসভবনে যায় এবং আগামী বুধবার তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নতুন নির্দেশ দেয়।
পুলিশের এই নোটিশ ও তৎপরতাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দারস্থ হলেও আপাতত কোনো আইনি স্বস্তি পেলেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মামলার দ্রুত শুনানি গ্রহণ করা সম্ভব নয়। ফলে পুজোর আবহে আইনি লড়াইয়ে কিছুটা চাপে পড়তে হলো শাসক দলের এই শীর্ষ নেতাকে।