সমুদ্রপথে ভারতের নয়া মাস্টারস্ট্রোক আন্দামান ও নিকোবর!
বার্তা ডেস্কঃ
বিশ্বব্যাপী পণ্য পরিবহনে তৈরি হওয়া বাধা মোকাবিলা করতে এবং নৌপথ সুসংহত করার লক্ষ্যে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে প্রধান সামুদ্রিক ও অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তুলতে চায় ভারত। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ‘আন্দামান ডায়লগ ২০২৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে ১৫টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ২০২৭ সালের মার্চে স্বরাজ দ্বীপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মূল আলোচনায় ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় সামুদ্রিক পরিকাঠামো এবং বাণিজ্য সংযোগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা স্থান পাবে। ভিডিও বার্তায় কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জকে একটি নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক সেতু হিসেবে তুলে ধরেন। নির্ভরযোগ্য অংশীদারিত্ব, ডিজিটাল লজিস্টিকস এবং সুরক্ষিত সমুদ্রপথ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক সাপ্লাই চেনকে শক্তিশালী করার প্রতি জোর দিয়েছেন তিনি।
প্রাক্তন নৌসেনা প্রধান এবং ন্যাশনাল মেরিটাইম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে. ত্রিপাঠি বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পথের কাছে এই দ্বীপপুঞ্জের বিশেষ অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বন্দর সংযোগ, জাহাজ নির্মাণ, মেরামত এবং সামুদ্রিক নজরদারিতে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে ভারত-আসিয়ান বাণিজ্য ১২৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারতের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১১ শতাংশ। সেই কারণে নিরাপত্তার পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে সামুদ্রিক অংশীদারিত্ব প্রসার করা অত্যন্ত জরুরি। ভারত সরকার এই খাতের বিকাশে ৬৯,৭২৫ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ প্রদান করেছে এবং আরও কয়েক লক্ষ কোটি টাকার সম্ভাব্য বিনিয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছে। ‘ইনফরমেশন ফিউশন সেন্টার’-এর মাধ্যমে কৌশলগত তথ্য আদান-প্রদান বাড়িয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বাণিজ্যিক স্থায়িত্ব রক্ষা করাই এই কর্মসূচির আসল উদ্দেশ্য।