বাংলাদেশ আমাদের পথ দেখিয়েছে! ভারতের রাজনীতিতে তোলপাড়
বার্তা ডেস্কঃ
পড়শি দেশ বাংলাদেশের গত বছরের ঐতিহাসিক ‘জুলাই অভ্যুত্থান’কে সামনে রেখেই কি এবার ভারতেও বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের সলতে পাকানো হচ্ছে? সম্প্রতি ভারতের রাজ্য রাজনীতি থেকে কেন্দ্রীয় স্তরে এই প্রশ্নটিই এখন সবচেয়ে বেশি জোরালো হয়ে উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর যুবনেত্রী নেহা বোরার একটি ভিডিও বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর। গত ১৪ অক্টোবর ‘সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট’ (SSF)-এর ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে পাঠানো ওই ভিডিও বার্তায় নেহা বোরা বাংলাদেশের ছাত্র ও তরুণদের সাম্প্রতিক লড়াইয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ভিডিওটিতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম যেভাবে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে, তা আমাদের লড়াইয়ের পথ দেখিয়েছে। বাংলাদেশের সেই আন্দোলন থেকে আমরা প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা নিচ্ছি।” এর পাশাপাশি ভারতের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ‘গৈরিকীকরণ’-এর অভিযোগ তুলে নরেন্দ্র মোদী সরকারের নীতি ও শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র তোপ দাগেন তিনি। দুই দেশের ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি বৈষম্যহীন ও উন্নত দক্ষিণ এশিয়া গড়ারও আহ্বান জানান এই বাম নেত্রী।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। ভারতের একজন ছাত্রনেত্রীর মুখে ওপার বাংলার সেই আন্দোলনের এমন খোলাখুলি প্রশংসা শুনেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানাতে আসরে নেমেছে শাসকদল বিজেপি।
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি এই ঘটনায় সরাসরি কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। নেহা বোরাকে ‘রাহুল গান্ধীর পোস্টার গার্ল’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ক্ষমতার পালাবদল থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার কথা বলে নেহা বোরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁদের উদ্দেশ্য কেবল সাধারণ প্রতিবাদ নয়—বরং দেশের নির্বাচিত শাসনব্যবস্থাকে বেআইনি ও জোরপূর্বক বদলে ফেলার এক বড় ষড়যন্ত্র।”
একদিকে বাংলাদেশের আন্দোলনকে মডেল করে বাম ছাত্র সংগঠনের এই নতুন সুর, আর অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে এই ইস্যুকে ঘিরে ভারতের রাজনীতি এখন কতটা উত্তপ্ত হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।