সুপ্রিম নির্দেশে স্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির! ‘পিছু হটলেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমার’, দাবি তৃণমূলের

আগামীকাল ৪ মে মহাগণনা। তার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে গণনা কর্মীদের নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে নিজেদের ‘নৈতিক জয়’ হিসেবে তুলে ধরল তৃণমূল কংগ্রেস। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ভোট গণনার সময় নিয়ম মেনেই কেন্দ্র এবং রাজ্য—উভয় সরকারের কর্মীদের নিয়োগ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। এই নির্দেশের পরেই একটি কড়া বিবৃতি জারি করে তৃণমূল দাবি করেছে, দেশের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে শেষ পর্যন্ত আদালতে নতিস্বীকার করতে বা ‘পিছু হটতে’ হয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও তৃণমূলের দাবি

গণনা কেন্দ্রে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের আধিক্য নিয়ে আপত্তি তুলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। শনিবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয় যে, গণনা প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য বজায় রাখতে রাজ্য সরকারি কর্মীদেরও শামিল করতে হবে এবং তা হতে হবে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে। এই নির্দেশ আসার পরেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, “আদালতে পিছু হটতে হল সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে। আমাদের আরজিকেই মান্যতা দিল শীর্ষ আদালত।” তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, কমিশন একতরফাভাবে কেন্দ্রীয় কর্মীদের ওপর ভরসা করে রাজ্যের কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল, যা আদালতের হস্তক্ষেপে থমকে গেল।

আইনি লড়াই ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন

তৃণমূলের আইনজীবী মহলের মতে, এই নির্দেশ গণনার দিন কারচুপি রোখার ক্ষেত্রে একটি বড় ঢাল হিসেবে কাজ করবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারবারই ইভিএম এবং ডেটা এন্ট্রি নিয়ে আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে গণনাকেন্দ্রে রাজ্যের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ায় তৃণমূলের এজেন্টরা বাড়তি শক্তি পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

কমিশনের মৌনতা

তৃণমূলের এই আক্রমণাত্মক বিবৃতির বিপরীতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন কমিশন আদালতের এই নির্দেশকে কীভাবে কার্যকর করছে, তার ওপর এখন নজর রাখছে সব পক্ষই। তবে আইনি লড়াইয়ের এই অধ্যায়টি যে ৪ মে-র আগে শাসক শিবিরের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

বাংলার এই মেগা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগে সুপ্রিম কোর্টের এই হস্তক্ষেপ গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে এক নতুন মাত্রা দিল। এখন দেখার, সোমবার ইভিএম খোলার সময় এই কর্মী-বিন্যাস গণনার গতি ও নির্ভুলতায় কতটা প্রভাব ফেলে।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *