জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলার ভেলায় নদী পারাপার! শীতলকুচিতে সেতুর অভাবে চরম ভোগান্তিতে গ্রামবাসীরা

শীতলকুচি: প্রশাসনের আশ্বাস আছে, কিন্তু হাতের কাছে নেই মজবুত সেতু। তাই বাধ্য হয়েই এখন কলার ভেলাকে ‘লাইফলাইন’ বানিয়ে গিরিধারী নদী পারাপার করছেন কোচবিহারের শীতলকুচি ব্লকের লালবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবনাথপাড়ার বাসিন্দারা। স্কুল পড়ুয়া থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রী—সবাই এখন চরম বিপদের মুখে।

পাথর বোঝাই ডাম্পারেই বিপত্তি দুর্ভোগের এই গল্পের শুরু গত জানুয়ারি মাসে। একটি ভারী পাথর বোঝাই ডাম্পারের ভার সইতে না পেরে দেবনাথপাড়ার গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি ভেঙে পড়ে। এরপর প্রশাসনের তরফে সেতুর পাশেই একটি অস্থায়ী কাঠের সাঁকো তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টিতে নদীর জল বাড়ায় বৃহস্পতিবার রাতে সেই সাঁকোটিরও একাংশ জলের তোড়ে ভেসে যায়। ফলে যাতায়াতের শেষ অবলম্বনটুকুও হারিয়েছেন গ্রামবাসীরা।

বিপজ্জনক নদী পারাপার শীতলকুচি-সিতাই রাজ্য সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই এলাকাটি। লালবাজার পঞ্চায়েত সহ সিতাই ব্লকের বহু মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। এখন সাঁকো না থাকায় বাসিন্দারা হয় মাইলের পর মাইল ঘুরপথে যাতায়াত করছেন, নয়তো কলার ভেলায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মিঁয়ার আক্ষেপ, “ঘুরপথে যেতে অনেকটা সময় আর খরচ বেশি পড়ে। তাই বাধ্য হয়েই প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এই ভেলায় উঠতে হচ্ছে। আমাদের প্রাণের দাম কি শুধুই একটা অস্থায়ী সাঁকো?”

প্রশাসনের তৎপরতা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেও শুরু হয়েছে তোড়জোড়। শীতলকুচির বিডিও অনিন্দিতা সিনহা ব্রহ্মা জানিয়েছেন, সাঁকো ভাঙার বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। ইতিমধ্যেই দ্রুততার সঙ্গে সাঁকো মেরামতের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, বারবার এই অস্থায়ী তালি দেওয়া সাঁকো দিয়ে আর কতদিন চলবে? স্থায়ী নতুন সেতু না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই মরণ-বাঁচন লড়াই শেষ হবে না বলেই মনে করছেন দেবনাথপাড়ার মানুষ।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *