বাংলার ভাগ্য কার হাতে? মমতার অস্তিত্ব বনাম শুভেন্দুর সম্মান, ভবানীপুরের ভাগ্য পরীক্ষায় মুহূর্তের আপডেট!
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সকালে গোটা রাজ্যের নজর এখন দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুল গণনাকেন্দ্রে ভোটগণনা শুরুর আগেই তৃণমূল ও বিজেপি প্রতিনিধিদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাদানুবাদ। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী—এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই এলাকাটি কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছে।
এজেন্টদের প্রবেশ ও নথিপত্র নিয়ে বিবাদ
গণনাকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের সময় তৃণমূলের পোলিং এজেন্টরা বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় ফাইল ও কলম নিয়ে ভেতরে ঢুকতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী বাধা দিচ্ছে, অথচ বিজেপির এজেন্টদের ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করা হচ্ছে। জনৈক তৃণমূল প্রতিনিধি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোক বলেই কি আমাদের ওপর এই বৈষম্য? নিয়ম সবার জন্য এক হওয়া উচিত।” অন্যদিকে, বিজেপি প্রতিনিধিদের পাল্টা দাবি, তৃণমূল এজেন্টরা বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়াই প্রবেশের চেষ্টা করে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছেন। তাঁদের মতে, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই শাসক দল এখন বাহানা খুঁজছে।
নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
পরিস্থিতি সামাল দিতে গণনাকেন্দ্রের বাইরে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। দফায় দফায় বাদানুবাদের ফলে ভোটগণনার শুরুতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভবানীপুরের এই উত্তাপের প্রভাব পার্শ্ববর্তী কেন্দ্রগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও, দুই শিবিরের এই অনমনীয় মনোভাব গণনার প্রতিটি রাউন্ডে টানটান উত্তেজনা বজায় রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শেষ পর্যন্ত এই স্নায়ুর লড়াইয়ে কে জয়ী হন, তা জানতে এখন রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায় বাংলা।