বাংলার হ্যালোউইন, উত্তরের গ্রামে কি সত্যিই লুকিয়ে কোনো রহস্য!
বার্তা ডেস্কঃ 
ভূত চতুর্দশীর পরদিন উত্তরবঙ্গের গ্রামগুলিতে শুরু হয় এক অনন্য আলোর উৎসব। মালদহ থেকে দুই দিনাজপুর, গোটা অঞ্চল মেতে ওঠে ঐতিহ্যবাহী গছা দেওয়া ও চোর খেলায়। চাষি পরিবারের বধূরা ধানখেতে ও ঘরের সামনে প্রদীপ জ্বেলে অশুভ শক্তি বিনাশের প্রার্থনা জানান। অন্যদিকে, কচিকাঁচারা লণ্ঠন ও পাটকাঠির খাঁচায় আলো নিয়ে গ্রাম প্রদক্ষিণ করে। কার্তিক মাসে ধানের খেতের পোকা দমন এবং কৃষি সংস্কৃতির ঐতিহ্য রক্ষার্থে এই আলো জ্বালানোর প্রথা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।
গ্রামের পুরুষ ও ছেলেরা এই রাতে ‘কালা চোরা’ বা চোর খেলায় অংশ নেয়, যা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জনজাতি সমাজে বেশ জনপ্রিয়। লোকসংস্কৃতি গবেষকদের মতে, এই উৎসব নিছক বিনোদন নয়, বরং প্রাচীন কৃষি বন্দনা ও পূর্বপুরুষদের স্মরণের এক পবিত্র মাধ্যম। রাতভর পালাগানের আসর এবং পাটকাঠিতে আগুন জ্বেলে ‘হকাহকি’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। ঐতিহ্য ও লোকবিশ্বাসের এই মেলবন্ধন উত্তরবঙ্গের সংস্কৃতিকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।