ভবানীপুর থেকে নন্দীগ্রাম— সবখানেই জয়জয়কার, মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়ে ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হলো। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের দুর্গ হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রামে পরাজিত করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। একই নির্বাচনে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম—উভয় কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়ে শুভেন্দু কেবল নিজের রাজনৈতিক গুরুত্ব প্রমাণ করেননি, বরং রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসের দীর্ঘদিনের এক রেকর্ড স্পর্শ করেছেন।

অজয় মুখোপাধ্যায়ের রেকর্ডে ভাগ বসালেন শুভেন্দু

শুভেন্দু অধিকারীর এই জয় ১৯৬৭ সালের সেই ঐতিহাসিক নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সে সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল চন্দ্র সেনকে পরাজিত করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায়। প্রায় ছয় দশক পর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটালেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকাকালীন কোনো প্রার্থীর কাছে হেরে যাওয়ার এই নজির পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অত্যন্ত বিরল। একই সঙ্গে দুই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করা এবং হেভিওয়েট প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করার এই কৃতিত্ব শুভেন্দুকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল।

পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রভাব

শুভেন্দু অধিকারীর এই জয়ের নেপথ্যে নন্দীগ্রামের দীর্ঘদিনের জনসংযোগ এবং সুপরিকল্পিত নির্বাচনী কৌশল কাজ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ফলাফলের ফলে রাজ্যের বিরোধী শিবিরের অবস্থান যেমন শক্তিশালী হলো, তেমনই বর্তমান শাসক দলের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ আরও বাড়বে। বিশেষ করে নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর পরাজয় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে সাংগঠনিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এল। এই জয় আগামী দিনে রাজ্যের শাসন কাঠামো এবং রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *