বঙ্গে পদ্ম-বিপ্লব! বিজয়ের পর শ্যামা প্রসাদের ভিটেয় গেরুয়া নেতৃত্বের শ্রদ্ধাঞ্জলি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের ঐতিহাসিক মূহুর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির পৈতৃক বাসভবনে ভিড় জমালেন বিজেপি নেতারা। সোমবার ভবানীপুরে গিয়ে এই তাত্ত্বিক নেতার প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা এবং পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মঙ্গল পাণ্ডে। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই আবহে দলের আদর্শগত শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

শিকড়ের টানে জয়োল্লাস

১৯৪৭ সালে অখণ্ড বাংলা পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার পেছনে প্রধান কারিগর ছিলেন শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি। ১৯৫১ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ভারতীয় জনসংঘ’ থেকেই আজকের ভারতীয় জনতা পার্টির উত্থান। নির্বাচনী ফলাফলে বড় সাফল্যের পর দলের প্রতিষ্ঠাতা-পুরুষের প্রতি এই শ্রদ্ধা নিবেদন আসলে বাংলার হিন্দু জনমানসে এবং বিজেপির আদর্শগত রাজনীতিতে তাঁর প্রাসঙ্গিকতাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার একটি প্রয়াস।

সোনার বাংলার লক্ষ্যে নতুন দিশা

ভারতের নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৬টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাধিক্য অর্জন করেছে। বিপরীতে তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসনে থমকে গেছে এবং বাম-কংগ্রেস শিবির কার্যত ধুয়ে মুছে গেছে। এই বিপুল জয়কে ‘সোনার বাংলার জন্য এক নতুন ঊষা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, এই ফলাফল বর্তমান স্থিতাবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘পূর্ব ভারত’ ও ‘বিকশিত ভারত’ ভাবনার প্রতি অটল আস্থার বহিঃপ্রকাশ।

নির্বাচনের এই ফলাফল পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিজেপির এই জয় রাজ্যের উন্নয়নকে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রার সাথে যুক্ত করার পথ প্রশস্ত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির আদর্শকে সামনে রেখে এবং মোদীর নেতৃত্বের ওপর ভর করেই বিজেপি আগামী দিনে বাংলার প্রশাসনিক সংস্কার ও উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *