তৃণমূল জমানার অবসান, বাংলার মসনদে বিজেপি! কে হচ্ছেন পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? চর্চায় এই ৩ হেভিওয়েট নাম
কলকাতা: দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে সূচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। বিধানসভা নির্বাচনে ২০০-র বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বাংলার ক্ষমতা দখল করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এই ঐতিহাসিক জয়ের পর এখন রাজ্যজুড়ে একটিই প্রশ্ন— কে হচ্ছেন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী?
মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে তিন হেভিওয়েট
রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অন্দরে সরকার গঠনের তৎপরতা শুরু হতেই সম্ভাব্য তিনজনের নাম নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের লড়াই থেকে শুরু করে দলের সাংগঠনিক বিস্তারে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে দৌড়ে পিছিয়ে নেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরাও। জল্পনা চলছে রাসবিহারীর জয়ী প্রার্থী তথা বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী স্বপন দাশগুপ্ত এবং বর্তমান রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে নিয়েও। দিল্লি ও রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা চলছে, যেখানে এই তিনজনের মধ্যে থেকেই কাউকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
পরাজয় অস্বীকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
অন্যদিকে, বিজেপির এই বিশাল জয়কে মানতে নারাজ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট প্রক্রিয়ায় কারচুপি ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি সরব হয়েছেন। ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মমতা। প্রয়োজনে জাতীয় স্তরে এই লড়াই নিয়ে যাওয়া এবং আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তৃণমূল শিবিরের দাবি, অনেক জেলায় গণনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি।
পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের দেড় দশকের শাসনের পতন এবং বিজেপির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যেই আসুক না কেন, তাঁর সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা। আপাতত চূড়ান্ত সিলমোহরের অপেক্ষায় দিল্লী থেকে ভেসে আসা সবুজ সংকেতের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা বাংলা।