৮ বছরের মেয়ের প্রাণ বাঁচাতে বাবার অবিশ্বাস্য লিভার দান!

বার্তা ডেস্কঃ

বিরল জিনগত রোগে আক্রান্ত আট বছরের এক মেয়েকে নিজের লিভারের অংশ দান করে নতুন জীবন দিলেন এক পুলিশকর্মী। বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সফল এই লিভার প্রতিস্থাপনের পর বর্তমানে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে শিশুটি এবং তাঁর বাবাও স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। দীর্ঘদিন ধরে জন্ডিস, পেট ফুলে যাওয়া, অসহ্য চুলকানি এবং শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যায় ভুগছিল মেয়েটি। বিভিন্ন পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি প্রোগ্রেসিভ ফ্যামিলিয়াল ইনট্রাহেপাটিক কোলেস্টেসিস টাইপ ৩ (PFIC 3) নামক একটি অত্যন্ত বিরল জিনগত লিভারের রোগে আক্রান্ত, যেখানে লিভার প্রতিস্থাপনই একমাত্র স্থায়ী চিকিৎসা।

পরিবারের সম্মতিতে ৪২ বছর বয়সী ওই পুলিশকর্মীর সমস্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাঁর লিভারের বাঁদিকের অংশ ৪১০ গ্রাম মেয়েকে দান করা হয়। প্রায় ১৪ ঘণ্টা ধরে চলা এই জটিল অস্ত্রোপচারে ট্রান্সপ্লান্ট সার্জেন, হেপাটোলজিস্ট ও অ্যানাস্থেটিস্টদের বিশেষজ্ঞ দল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অতি ক্ষুদ্র রক্তনালী ও পিত্তনালীগুলি জোড়া লাগান। অস্ত্রোপচারের মাত্র একদিনের মধ্যেই ভেন্টিলেটর মুক্ত হয় শিশুটি এবং ১৮ দিনের মাথায় তাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। অন্যদিকে, মাত্র ১০ দিনেই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে নিজের পুলিশি কাজে যোগ দিয়েছেন দাতা বাবা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *