বর্ধমানের নিভৃত মন্দিরে আজও কি জীবন্ত সেই রক্তিম ইতিহাস!
বার্তা ডেস্কঃ
বর্ধমানের তেজগঞ্জের নির্জন কোণে আজও জাঁকজমকহীনভাবে পূজিত হন পাষাণ মূর্তির ‘বিদ্যাসুন্দর কালী’। প্রচলিত লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যে উল্লিখিত দেবীর মন্দির এটিই। একদা ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই মন্দিরে বর্ধমান রাজপরিবারের সদস্যরা পুজো দিতেন এবং সেই আমলে নিয়মিত নরবলি হতো। এই ইতিহাস ও লোককথার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন এক সুড়ঙ্গ পথ, যা দিয়ে গোপনে রাজবাড়িতে গিয়ে রাজকন্যা বিদ্যার সঙ্গে দেখা করতেন প্রেমিক সুন্দর।
গোপন প্রেমের খবর জেনে ক্ষুব্ধ রাজা উভয়কেই এই কালীতলায় এনে হাড়িকাঠে বলির নির্দেশ দেন। তবে বলির মুহূর্তে সুন্দর দেবীকে প্রণাম করতেই কাপালিক অচৈতন্য হয়ে পড়েন এবং বিদ্যা-সুন্দর অলৌকিকভাবে অন্তর্ধান হন। এই ঘটনার পর থেকেই চিরতরে বন্ধ হয় নরবলি প্রথা। রাজনির্দেশে বাঁকুড়া থেকে আসা পূজারীদের বংশধরেরা আজও এই মন্দিরের দায়িত্বে রয়েছেন। অতীতের রাজকীয় জাঁকজমক ও ভোজের আয়োজন না থাকলেও, কার্তিক অমাবস্যায় পূর্ণ নিষ্ঠা ও ভক্তির সঙ্গেই আয়োজিত হয় দেবীর পুজো।