এক রাতে ধসে বিলীন আস্ত গ্রাম, ওড়িশার ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ল স্বপ্ন!
বার্তা ডেস্কঃ
পাহাড়ধসে নিখোঁজ ১০, উদ্ধার সম্ভব না হওয়ায় প্রতীকী শেষকৃত্যের প্রস্তুতি গিডিপাবালিতে
নিজস্ব প্রতিবেদক: ওড়িশার গিডিপাবালি গ্রামে গত ২৮ অক্টোবর গভীর রাতে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় নিখোঁজ ১০ গ্রামবাসীর বেঁচে থাকার আশা প্রায় ক্ষীণ হয়ে এসেছে। দুর্ঘটনার বেশ কিছু দিন পেরিয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রিয়জনদের মরদেহ উদ্ধার করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত প্রতীকী শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিচ্ছেন অসহায় পরিবারগুলো।
গত ২৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টে নাগাদ গিডিপাবালি গ্রামে আকস্মিক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। নিঝুম রাতে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়লে মাটি, পাথর ও গাছের নিচে চাপা পড়ে যায় বেশ কিছু বসতবাড়ি। ঘটনার পরপরই এনডিআরএফ (NDRF), ওড্রাফ (ODRAF) এবং দমকল বাহিনীর সহায়তায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়। অত্যাধুনিক রাডার, স্নিফার ডগ ও ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে তল্লাশি চালিয়ে এ পর্যন্ত রবি মালিক (৫২) এবং সালমান প্রধান (২৯) নামের দুই ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতার মাটির স্তূপ, কয়েক টন ওজনের পাথর এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ওপর নতুন করে ধসের আশঙ্কা এবং গত ৪ ও ৫ নভেম্বর বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রশাসন সাময়িকভাবে উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়।
দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকাপড়া ১০ জন আর জীবিত নেই বলেই ধরে নিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ও গ্রামবাসীরা। তবে মাটির গভীর স্তর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা আসাম্ভব হয়ে পড়ায় শোকাহত পরিবারগুলো হিন্দু ধর্মীয় রীতি মেনে কুশপুতুল বা প্রতীকী দেহ বানিয়ে প্রিয়জনদের শেষবিদায় জানানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রকৃতির এই নির্মম পরিহাসে শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রাম।