চিপ উৎপাদনে স্বনির্ভর ভারত! চালু হলো সেমিকন ২.০ পোর্টাল
ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে বড় উদ্যোগ: ১২টি নতুন প্রকল্পের অনুমোদন ও সেমিকন ২.০ পোর্টালের সূচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার লক্ষ্যকে আরও গতিশীল করতে ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং স্কিম (ECMS)-এর আওতায় আরও ১২টি সংস্থার বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কেন্দ্র। এই প্রকল্পগুলিতে মোট ৭,৫০৩ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের ফলে ৩৯,০৪৫ কোটি টাকার উৎপাদন এবং ৭,১২৭টি নতুন প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
অনুমোদিত ১২টি প্রকল্প গুজরাট, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, পঞ্জাব, তামিলনাড়ু ও উত্তরপ্রদেশ জুড়ে বিস্তৃত। এই কারখানাগুলিতে মাল্টি-লেয়ার পিসিবি, রিলে, হিট সিঙ্ক, বিশেষ সিরামিক, কপার ফয়েল এবং ব্যাটারির অ্যানোড-ক্যাথোড উপকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ তৈরি হবে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভারতের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন এখন কেবল যন্ত্রাংশ জোড়া লাগানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং ব্যাটারি সেল ও অন্যান্য কাঁচামাল উৎপাদনেও দেশীয় সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে।
এর পাশাপাশি, ভারতকে আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘সেমিকন ২.০’ (Semicon 2.0) পোর্টাল চালু করা হয়েছে। ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশনের অধীনে এই পর্যায়ের জন্য ১,২৭,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এই নতুন পোর্টালের মাধ্যমে চিপ ডিজাইন, উন্নত যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, নতুন ফ্যাব ইউনিট এবং গবেষণা ও দক্ষ কর্মী তৈরির প্রকল্পে আবেদন করা যাবে।
উল্লেখ্য, সেমিকন ইন্ডিয়া প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ছয়টি রাজ্যে ১২টি প্রকল্পে ১.৬৪ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ অনুমোদিত হয়েছিল, যার মধ্যে পাঁচটি প্রকল্পে ২০২৬ সালের অক্টোবরের মধ্যেই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে। এছাড়া চিপ তৈরির প্রযুক্তিতে প্রায় ৭০ হাজার পড়ুয়াকে প্রশিক্ষণ এবং ১০৫টি স্টার্টআপকে ইডিএ (EDA) টুলস ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এখন পর্যন্ত ECMS-এর অধীনে ১৬টি রাজ্যে ১১৮টি আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। এর ফলে মোট ৭৭,০৫১ কোটি টাকা বিনিয়োগের পাশাপাশি ৫,৭৩,১৪৬ কোটি টাকার উৎপাদন এবং ৮১,৭৫৫টি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশেই পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন পরিকাঠামো গড়ে তোলাই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।