ভোট মিটতেই রণক্ষেত্র শ্রীরামপুর! পুলিশকর্মীর নাক ফাটালেন তৃণমূল কাউন্সিলর, গ্রেফতার
ভোটের ফলাফল প্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল শ্রীরামপুর। বুধবার শ্রীরামপুর পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের টিন বাজার এলাকায় একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ উঠেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যাওয়া পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই) নাকে সজোরে ঘুষি মেরেছেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর রাজেশ শাহ ওরফে কুকুয়া। এই ঘটনায় কাউন্সিলরসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত ও সংঘাতের কারণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে তালা লাগানো ছিল। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সেই তালা খুলতে গেলে কাউন্সিলর রাজেশ শাহ ও তাঁর অনুগামীরা বাধা দেন। বচসা চলাকালীন আচমকাই মেজাজ হারিয়ে এএসআই নটরাজের নাকে ঘুষি মারেন কাউন্সিলর। আঘাতে পুলিশকর্মীর নাক ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকা জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং অভিযুক্তদের আটক করে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও প্রভাব
গ্রেপ্তারির পর আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে ধৃত কাউন্সিলর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রাজেশের দাবি, ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পের মাধ্যমে তৈরি হওয়া কেন্দ্রটি সিপিএম ও বিজেপি জোরপূর্বক দখল করতে চাইছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেস ভালো ফল করায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তাঁকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
অন্যদিকে, শ্রীরামপুরের বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এলাকায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের ফল পরবর্তী এই হিংসা ও জনপ্রতিনিধির হাতে খোদ পুলিশকর্মীর আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ধৃতদের শ্রীরামপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার অধিকতর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।