তৃণমূলে বড় ধস, ‘কাজের পরিবেশ নেই’ বলে ইস্তফা সুজয় চক্রবর্তীর

২০২৬-এর রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই হাওড়া জেলা তৃণমূল শিবিরে বড়সড় ধস নামল। দীর্ঘদিনের সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিলেন হাওড়া পুরসভার প্রাক্তন মুখ্য প্রশাসক তথা বর্ষীয়ান নেতা ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী। সাংবাদিক বৈঠক করে দলের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ ক্ষোভ উগরে দিয়ে এদিন তিনি নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। মূলত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অসহযোগিতা ও বঞ্চনার অভিযোগই তাঁর এই চরম সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কাজ করেছে বলে জানা গেছে।

অসহযোগিতা ও প্রশাসনিক স্থবিরতার অভিযোগ

সুজয় চক্রবর্তীর দলত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হাওড়া পুরসভার প্রশাসনিক কাজে সরকারি ও দলীয় অসহযোগিতা। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলালেও প্রয়োজনীয় তহবিলের অভাবে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব হয়নি। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরে বারবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও অর্থ বরাদ্দ মেলেনি। এই আর্থিক সংকটের কারণে একদিকে যেমন কর্মীদের বেতন সময়মতো দেওয়া যাচ্ছিল না, অন্যদিকে ঠিকাদারদের কয়েক কোটি টাকার বিলও আটকে ছিল। তৎকালীন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বারবার আশ্বস্ত করলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও রাজনৈতিক জল্পনা

দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়েও সরব হয়েছেন এই চিকিৎসক-নেতা। তিনি স্পষ্ট জানান, দলের অসহযোগিতার কারণে আগেই চেয়ারম্যান পদ ছেড়েছিলেন, তবে নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে এতদিন দলকে অস্বস্তিতে ফেলেননি। যদিও এখনই অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তিনি নাকচ করে দিয়েছেন, তবুও হাওড়ার রাজনীতিতে তাঁর মতো দক্ষ প্রশাসকের প্রস্থান তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। বিরোধীদের মতে, হাওড়া পুরসভার নির্বাচন দীর্ঘকাল আটকে থাকা এবং প্রশাসনিক স্থবিরতার ফলেই শাসকদলের অন্দরে এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *