নতুন পরিষদীয় দলের প্রথম বৈঠকেই গরহাজির ১১ বিধায়ক, তুঙ্গে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বের জল্পনা!
তৃণমূলের নতুন পরিষদীয় দল নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা প্রথম বৈঠকেই দেখা দিল বড়সড় ফাটল। বুধবার কালীঘাটে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সভায় দলের অন্তত ১১ জন জয়ী প্রার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর নেত্রীর ডাকা প্রথম সভাতেই এত বিপুল সংখ্যক বিধায়কের গরহাজিরায় দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সংহতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।
গরহাজির বিধায়ক ও দলীয় ব্যাখ্যা
দলীয় সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অনুপস্থিত বিধায়কদের তালিকায় রয়েছেন বীরভূমের হাসনের কাজল শেখ, মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির বায়রন বিশ্বাস, ভরতপুরের মুস্তাফিজুর রহমান (সুমন) এবং উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙার কাশেম সিদ্দিকি প্রমুখ। গরহাজিরার কারণ হিসেবে দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় আক্রান্ত কর্মীদের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে কাজল শেখের ক্ষেত্রে জানানো হয়েছে, নানুরে রাজনৈতিক অশান্তিতে একজনের মৃত্যু হওয়ায় তিনি আসতে পারেননি। তবে নেত্রীর উপস্থিতিতে প্রথম সভাতেই এই অনুপস্থিতি উপস্থিত অনেক বিধায়ককেই চমকে দিয়েছে।
কঠোর বার্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষা
বৈঠক চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের একাংশের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে খবর। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দলের বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ কাজ করলে বা বিশ্বাসঘাতকতা করলে তাঁকে বহিষ্কার করা হবে। পাশাপাশি, দলের সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অনেক নেতা ব্যক্তিগত মতামত সামাজিক মাধ্যমে দিচ্ছেন, যা দলের অবস্থান নয়।
প্রভাব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম বৈঠকেই ১১ জন বিধায়কের গরহাজিরা শাসক দলের অন্দরে সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে এলাকা সামলানোর যুক্তি দেওয়া হলেও, দলের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী সভায় তাঁদের অনুপস্থিতি তৃণমূলের অন্দরে কোনো চোরা স্রোত বইছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। দূরের জেলা থেকে আসা বিধায়কদের আপাতত কলকাতাতেই থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা থেকে মনে করা হচ্ছে দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত তৎপর। এই ঘটনা আগামী দিনে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে।