ভোটের জয়ে রাজনৈতিক আক্রোশের বলি শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক! অভিযোগ শুভেন্দুর
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মতো হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর জয় ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে এই সাফল্যের আবহে তাঁর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের আকস্মিক মৃত্যু এক নতুন বির্তকের জন্ম দিল। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে চন্দ্রনাথকে খুনের ঘটনায় সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ভবানীপুরে বিজেপির জয় মেনে নিতে না পেরেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
পরিকল্পিত খুনের নেপথ্যে রাজনৈতিক রোষ?
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায়। অত্যন্ত সরু গলিতে চন্দ্রনাথের গাড়ি আটকে আততায়ীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। শুভেন্দু অধিকারীর মতে, ভবানীপুর কেন্দ্রের সাংগঠনিক দায়িত্ব চন্দ্রনাথের কাঁধে ছিল এবং সেখানে দলের অভাবনীয় জয়ে বিরোধীরা ক্ষুব্ধ হয়ে এই হামলা চালিয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তথা অমিত শাহ ও নীতিন নবীন ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে শুভেন্দুর সাথে যোগাযোগ করেছেন। বিজেপি শিবিরের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই বেছে বেছে শুভেন্দুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তদন্তে সিট ও রহস্যময় গাড়ি
এই চাঞ্চল্যকর খুনের কিনারা করতে রাজ্য পুলিশ ও সিআইডি-র সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, অপরাধীরা শিলিগুড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেট লাগানো একটি স্টিল রঙের গাড়ি ব্যবহার করেছিল এবং পালানোর সময় গাড়িটি ঘটনাস্থলেই ফেলে যায়। পুলিশের অনুমান, ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে এবং তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতেই ভুয়া নম্বর প্লেট ও রেইকি করার কৌশল নেওয়া হয়েছিল।
প্রভাব ও পরবর্তী পরিস্থিতি
বারাসত মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্তের পর শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, তিনি রাজ্য পুলিশের ওপর আস্থা রাখছেন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মূল অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এই হত্যাকাণ্ডের ফলে একদিকে যেমন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে প্রতিহিংসার সংস্কৃতি নিয়েও শুরু হয়েছে তীব্র বাদানুবাদ।