হামলার শিকার হলে পরমাণু বোমা তৈরির পথে ইরান, হুঁশিয়ারি তেহরানের

পশ্চিম এশিয়ায় চরম উত্তেজনার মধ্যেই এবার আমেরিকাকে সরাসরি পরমাণু বোমার হুঁশিয়ারি দিল ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ইরানের ওপর পুনরায় কোনো সামরিক হামলা চালানো হলে তারা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার পথে হাঁটবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, এই মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ মূলত পরমাণু অস্ত্র তৈরির চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাইয়ের এই মন্তব্য ঘিরেই এখন বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের মেঘ জমছে।

পরমাণু কর্মসূচি ও যুদ্ধের আবহ

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের পরমাণু স্থাপনা লক্ষ্য করে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ওই হামলায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন কথা বলছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের হাতে থাকা বিপুল পরিমাণ উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার এখনও অক্ষত থাকার সম্ভাবনা প্রবল। তেহরান এখন সেই মজুদকে অস্ত্র তৈরির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে ওয়াশিংটনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে চাইছে।

অনমনীয় অবস্থান ও কূটনৈতিক সংকট

বর্তমানে বিবাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ। ওয়াশিংটন দাবি করছে যে, ইরানকে অবশ্যই উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠাতে হবে এবং সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া চিরতরে বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে, ইরান এই শর্ত মানতে নারাজ। দেশটির সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আমেরিকার সামনে ইরানের জনগণের অধিকার মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। ইরানের এই অনড় অবস্থান এবং পাল্টা হামলার হুমকি পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদি কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হয় এবং নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হয়, তবে তা বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *