মুখ পুড়ল পাক সেনাপ্রধানের, ভারতের চাপের মুখে আমেরিকার পায়ে পড়েছিল পাকিস্তান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিস্ফোরক মন্তব্যে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে পাকিস্তান। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি আসলে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বিশেষ অনুরোধে করা একটি ‘উপকার’ ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের পূর্বতন বয়ানকে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণ করেছে, যা ইসলামাবাদের জন্য চরম কূটনৈতিক লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অ্যাঙ্কোরেজ যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, তিনি নিজে এই যুদ্ধবিরতির পক্ষে ছিলেন না। কিন্তু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের অনুরোধেই তিনি মধ্যস্থতা করেছিলেন। এর আগে ‘অপারেশন সিন্দুর’ চলাকালীন নিজের নির্দেশে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা বললেও, কোন দেশের অনুরোধে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা এতদিনে খোলসা করলেন ট্রাম্প।

পাক সেনাপ্রধানের অসত্য দাবি ফাঁস

ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের দাবির একেবারে বিপরীত। সম্প্রতি রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান আর্মির জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সের এক অনুষ্ঠানে মুনির দাবি করেছিলেন, ভারতই নাকি আমেরিকার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল এবং আঞ্চলিক শান্তির স্বার্থে পাকিস্তান তা মেনে নেয়। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মুখ খোলায় পাক সেনাপ্রধানের সেই স্ব-ঘোষিত বীরত্ব ও দাবি এখন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে।

মার্কিন নথিতে ইসলামাবাদের দৌড়ঝাঁপের প্রমাণ

শুধুমাত্র ট্রাম্পের মুখের কথাই নয়, আমেরিকার সরকারি নথিও পাকিস্তানের এই মিথ্যাচারকে সামনে এনেছে। মার্কিন ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের (FARA) রেকর্ড অনুযায়ী, ভারত যখন পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার জবাবে ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে, তখন তীব্র আতঙ্কে পড়ে ইসলামাবাদ। নথিতে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ৬ থেকে ৯ মে-র মধ্যে পাকিস্তান প্রায় ৬০ বার মার্কিন আইনপ্রণেতা, কংগ্রেস সদস্য, প্রতিরক্ষা ও ট্রেজারি কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া দরবার করেছিল।

ভারতের সামরিক চাপ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনার মূল কারণ ছিল ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’। ভারতীয় তিন বাহিনীর এই যৌথ অভিযানের মাধ্যমে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের অন্তত ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে নিখুঁত ও বিধ্বংসী হামলা চালানো হয়। ভারতের এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপের চাপ সহ্য করতে না পেরেই ওয়াশিংটনের পায়ে পড়তে বাধ্য হয়েছিল পাকিস্তান।

এই তথ্য ফাঁস হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের কূটনৈতিক বিশ্বস্ততা বড়সড় ধাক্কা খেল। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরেও পাক সেনা ও সরকারের ভাবমূর্তি চরম সংকটের মুখে পড়েছে, যেখানে ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক বিজয় আরও একবার স্পষ্ট হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *