ভয়াবহ নির্মমতার শিকার গোয়ালিয়রের নাবালিকা, বেঙ্গালুরুতে অপহরণ ও গণধর্ষণের ঘটনায় ধৃত ৫

মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র থেকে এক নাবালিকাকে অপহরণ করে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের এক চরম নৃশংস ঘটনা সামনে এসেছে। এই নক্কারজনক অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই মহিলা সহ মোট পাঁচজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এই চক্রের আরও এক অভিযুক্ত এখনও পলাতক রয়েছে এবং তার সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অপহৃত নাবালিকাকে উদ্ধার করে দীর্ঘ আইনি ও মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার পর অবশেষে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তদন্তের বিবরণে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ওই নাবালিকাকে গোয়ালিয়র থেকে ফুসলিয়ে ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ফেব্রুয়ারি মাসে মেয়েটির মা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি ও অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তৎপরতার সাথে তদন্তে নামে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বেঙ্গালুরুর একটি ঘর থেকে বন্দি অবস্থায় নাবালিকাটিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাকে গোয়ালিয়রের একটি সরকারি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে এক মাস রাখা হয়েছিল এবং সেখানেই মায়ের কাছে নিজের ওপর হওয়া অবর্ণনীয় অত্যাচারের কথা প্রথম প্রকাশ করে ওই কিশোরী।

অপরাধের ধরন ও নেপথ্য কারণ

প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট যে, এটি একটি সুপরিকল্পিত অপরাধমূলক চক্রের কাজ। নাবালিকাটিকে মূলত মহানগরীতে ভালো সুযোগ বা অন্য কোনো প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলা হয়েছিল। এই অপরাধের পেছনে নারী পাচার বা যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট। ঘটনার ভয়াবহতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে ধৃত দুই মহিলার ভূমিকার কারণে। অভিযোগ উঠেছে, ওই দুই মহিলা নাবালিকাটিকে আটকে রাখতে এবং তার ওপর চলা যৌন নির্যাতনে সরাসরি সহায়তা ও প্ররোচনা জুগিয়েছিল। বাকি অভিযুক্তরা তাকে আটকে রেখে দিনের পর দিন গণধর্ষণ করে বলে জানা গেছে।

সামাজিক প্রভাব ও পুলিশি পদক্ষেপ

এই ঘটনার পর পুলিশ মোট ছয় জনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে। ধৃত পাঁচজনের মধ্যে কেউ অপহরণের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, আবার কেউ সরাসরি ধর্ষণের অপরাধের সাথে যুক্ত ছিল বলে পুলিশি সূত্রে জানানো হয়েছে। দেশের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে নিয়ে গিয়ে নাবালিকা নির্যাতনের এই ঘটনাটি আন্তঃরাজ্য অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের সক্রিয়তাকে আবারও প্রমাণ করে। এই ধরণের অপরাধ সমাজে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন খাড়া করছে। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে এবং ধৃতদের কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করতে তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *