পরমাণু অস্ত্র নিশ্চিহ্নের ব্লু-প্রিন্ট! ইরানের সাথে ‘গোপন চুক্তির’ পথে ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদন, ওয়াশিংটন: সামরিক সংঘাতের উত্তাল দিন শেষে এবার কি কূটনীতির টেবিলে শান্তি ফিরতে চলেছে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে? প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ অন্তত তেমনই এক চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরানকে কোনোমতেই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হতে দেওয়া হবে না—এই অনড় অবস্থানে দাঁড়িয়ে এবার ওয়াশিংটন সরাসরি দ্বারস্থ হলো পরমাণু বিজ্ঞানীদের।

গোপন বৈঠকের নেপথ্যে ট্রাম্পের বিশেষ দূত:

সাম্প্রতিক এক পদক্ষেপে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনারকে দেখা গেছে টেনেসির ওক রিজ জাতীয় গবেষণাগারে। সেখানে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘ বৈঠক ওয়াশিংটনের অন্দরেই নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। সূত্রের খবর, ইরানের পরমাণু জটিলতাগুলো নিরসনে প্রায় ১০০ জন বিশেষজ্ঞের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। তাঁদের কাজ? ইরানের পরমাণু ভাণ্ডার স্থায়ীভাবে কীভাবে নিশ্চিহ্ন করা যায়, তার একটি নিখুঁত প্রযুক্তিগত রূপরেখা তৈরি করা।

সামরিক নাকি কূটনৈতিক সমাধান?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযানের পরও ইরানের ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রগুলো অক্ষত থাকায় মার্কিন প্রশাসন যে এখনও শঙ্কিত, তা স্পষ্ট। ট্রাম্প এখন আর শুধুই বন্দুকের নলের ওপর নির্ভর করতে চাইছেন না। বরং সামরিক চাপের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার ‘চাপ’ সৃষ্টি করাই এখন তাঁদের মূল কৌশল। তবে তেহরান কি সত্যিই তাদের পারমাণবিক স্বপ্ন বিসর্জন দিতে রাজি হবে? মার্কিন বাহিনী ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে শর্ত রেখেছে, তা মেনে নেওয়া নিয়ে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে এখন স্নায়ুযুদ্ধ তুঙ্গে।

মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও মিশর:

এই অচলাবস্থা ভাঙতে এখন আসরে নেমেছে পাকিস্তান ও মিশর। পাকিস্তানের মন্ত্রী মহসিন নকভি ইতিমধ্যেই তেহরানে পৌঁছে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনও কোনো দীর্ঘমেয়াদী সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখছে।

চুক্তি কি তবে চূড়ান্ত হতে চলেছে? নাকি আলোচনার আড়ালে চলছে পরবর্তী বড় কোনো যুদ্ধের প্রস্তুতি? ওক রিজের এই বিজ্ঞানীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, ট্রাম্প কোনো কিছুই আর ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিতে রাজি নন। ওয়াশিংটনের এই নয়া ‘নিউক্লিয়ার গেমপ্ল্যান’ ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে কোন দিকে মোড় ঘোরায়, সেটাই এখন বিশ্বজুড়ে কোটি টাকার প্রশ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *