শিক্ষাঙ্গনে কলঙ্ক! নাবালিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে ধৃত ভাইস প্রিন্সিপাল
নিজস্ব প্রতিবেদন, অন্ডাল: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো পবিত্র জায়গায় এক নাবালিকা ছাত্রীর সঙ্গে যে অমানবিক ও ঘৃণ্য ঘটনা ঘটেছে, তা কল্পনাকেও হার মানায়। অন্ডালের উখড়া গ্রামের এক নামী বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে লাগাতার শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে খোদ ভাইস প্রিন্সিপালকে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় ধিক্কারের ঝড় উঠেছে।
দপ্তরেই চলত ‘অশ্লীল খেলা’:
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্লাসের ফাঁকে কৌশলে ওই ছাত্রীকে নিজের দপ্তরে ডেকে নিয়ে যেতেন অভিযুক্ত শিক্ষক। সেখানে দিনের পর দিন চলত শ্লীলতাহানি। অবোধ নাবালিকা ভয় ও আতঙ্কে প্রথমদিকে কাউকে কিছু বলার সাহস পায়নি। তবে শেষ পর্যন্ত ধৈর্যের বাঁধ ভাঙলে সে বাড়ির সদস্যদের কাছে গোটা ঘটনাটি খুলে বলে। শনিবার পরিবারের পক্ষ থেকে অন্ডাল থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই পুলিশ দ্রুত সক্রিয় হয়। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর রবিবার তাঁকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে।
নিরাপত্তার প্রশ্নে অভিভাবক মহলে ক্ষোভ:
স্কুলের মতো নিরাপদ জায়গায় একজন শিক্ষকের এহেন পৈশাচিক রূপ প্রকাশ্যে আসতেই অভিভাবক মহলে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। স্কুল চত্বরে হোস্টেল থাকা সত্ত্বেও একজন নাবালিকা ছাত্রী কেন সুরক্ষিত নয়, সেই নিয়েই সোচ্চার হয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
প্রশাসনিক ব্যর্থতার চরম নিদর্শন:
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল একজন ব্যক্তির নৈতিক অবক্ষয় নয়, বরং স্কুলের প্রশাসনিক নজরদারির চূড়ান্ত ব্যর্থতা। শিক্ষার পীঠস্থানে দাঁড়িয়ে একজন শিক্ষক কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে এমন জঘন্য অপরাধ চালিয়ে গেলেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। স্থানীয় মানুষ এখন অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব। এই ঘটনা যে শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতায় এক বড়সড় কালি লেপে দিল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, আদালতের নির্দেশে তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।