হোর্মুজ প্রণালীতে ইরানি জাহাজ জব্দ করলেন ট্রাম্প! বাড়ছে যুদ্ধ আর চরম উত্তেজনার পারদ
হোর্মুজ প্রণালীর কৌশলগত জলসীমায় বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌ-অবরোধ অমান্য করার অভিযোগে ‘টুস্কা’ নামক একটি বিশাল ইরানি মালবাহী জাহাজ জব্দ করার দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস স্প্রুয়েন্স’ ওমান উপসাগরে জাহাজটিকে থামার সংকেত দিলেও তা অমান্য করায় সেটির ইঞ্জিন রুমে ছিদ্র করে সেটিকে অচল করে দেয় মার্কিন নৌসেনা। বর্তমানে ৯০০ ফুট লম্বা এই জাহাজটি সম্পূর্ণ মার্কিন মেরিন সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেটির ভেতরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
শান্তি আলোচনার ওপর অনিশ্চয়তার কালো মেঘ
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল আলোচনার জন্য প্রস্তুত হলেও, জাহাজ জব্দের এই ঘটনায় পুরো প্রক্রিয়াটি এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর আগে হোয়াইট হাউস হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, ইরান প্রস্তাবিত চুক্তিতে সম্মত না হলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান এবং সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের প্রভাব
ইরান এখনো এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে তাদের পক্ষ থেকে সমঝোতার ইঙ্গিতও মেলেনি। উল্টো ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের কলিবাফ স্পষ্ট করেছেন যে, কূটনীতির ক্ষেত্রে তারা কোনো ছাড় দেবেন না। হোর্মুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধ এখন চূড়ান্ত সংঘাতের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ওমান উপসাগরের এই জলসীমা দিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের একটি বড় অংশ পরিচালিত হয়, ফলে সেখানে অস্থিরতা বাড়লে বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এক ঝলকে
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোর্মুজ প্রণালীর কাছে ‘টুস্কা’ নামক একটি ইরানি জাহাজ জব্দের ঘোষণা দিয়েছেন।
- নৌ-অবরোধ ভাঙার চেষ্টাকালে মার্কিন নৌসেনা জাহাজটির ইঞ্জিনে গুলি চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেয়।
- এই উত্তেজনার ফলে পাকিস্তানে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
- ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।