কঠোর জবাব দেওয়া হবে! হরমোজ প্রণালীতে কার্গো জাহাজে মার্কিন হামলায় ক্ষুব্ধ ইরান
ওমান সাগরে ইরানি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ মার্কিন নৌবাহিনী কর্তৃক জব্দ হওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের ‘হজরত খাতাম আল-আনবিয়া’ সামরিক সদর দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন সেনারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় জলদস্যুতা চালিয়ে তাদের জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এই ঘটনাকে যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে তেহরান কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
মার্কিন অভিযান ও জাহাজের ক্ষয়ক্ষতি
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হোরমুজ প্রণালীর কাছে নৌ-অবরোধ অমান্য করার চেষ্টাকালে তারা ইরানি জাহাজটি আটক করে। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস স্প্রুয়েন্স’ থেকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও জাহাজটি না থামায় মার্কিন নৌসেনারা সেটির ইঞ্জিন রুমে গোলাবর্ষণ করে সেটিকে অচল করে দেয়। পরবর্তীতে ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের সদস্যরা জাহাজে উঠে সেটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং বর্তমানে জাহাজটি মার্কিন হেফাজতে রয়েছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও যুদ্ধের আশঙ্কা
ইরান এই ঘটনাকে স্রেফ উস্কানিমূলক নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে চালানো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখছে। দেশটির সামরিক দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন সেনারা জাহাজের নেভিগেশন সিস্টেম অকেজো করে দিয়ে ডেক দখল করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী খুব শীঘ্রই এই ‘ডাকাতি’র মোক্ষম জবাব দেবে। গত এক সপ্তাহে ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ শুরু হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে বড় সংঘাতের ঘটনা।
উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রভাব
এই সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হোরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অবরোধ ভাঙার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমনের ঘোষণা দেওয়ায় ওমান সাগরে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের সম্ভাবনা প্রকট হচ্ছে। ইরান পাল্টা কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করলে এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী সংকটে রূপ নিতে পারে।
এক ঝলকে
- ওমান সাগরে ইরানি কার্গো জাহাজ জব্দ ও ইঞ্জিন রুমে হামলা চালিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী।
- মার্কিন দাবি অনুযায়ী, জাহাজটি বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে নৌ-অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল।
- ইরান এই ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে খুব দ্রুত প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
- অবরোধ শুরুর পর এই প্রথম কোনো ইরানি জাহাজ সরাসরি মার্কিন সামরিক শক্তির মুখে পড়ল।