তপ্ত বিশ্ববাজার আর জ্বালানির চড়া দামে কি এবার আরও মহার্ঘ্য হবে ঋণের কিস্তি
এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের কালো মেঘ তৈরি করেছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বর্তমানে প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির এই ঊর্ধ্বগতি সরাসরি ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে আঘাত হানতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে না এলে মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা
ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (ইউবিআই)-এর সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে যে, তেলের দাম যদি ৯০ ডলারের গণ্ডি পেরিয়ে যায়, তবে মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছাতে পারে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যের ওপর। এই চেইন রিঅ্যাকশনের ফলে বাজারে টাকার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে।
সাধারণ মানুষের পকেটে টান
বর্তমানে ঋণে সুদের হার কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও জ্বালানি সংকটের জেরে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। যদি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাঙ্কগুলো সুদের হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়, তবে বাড়ি বা গাড়ির ঋণের মাসিক কিস্তি (EMI) উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। মূলত ক্রমবর্ধমান তেলের দাম ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশে ঋণের বোঝা বাড়িয়ে সাধারণ মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
এক ঝলকে
- এশিয়ায় উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের পথে।
- তেলের দাম ৯০ ডলার ছাড়ালে মুদ্রাস্ফীতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে ইউনিয়ন ব্যাঙ্কের রিপোর্টে আশঙ্কা।
- বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাঙ্কগুলো ঋণের ওপর সুদের হার বাড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
- জ্বালানি সংকটের ফলে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ও গৃহ ঋণের মাসিক কিস্তি বা ইএমআই বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ছে।