ব্যান কালচারকে হারাল মেধা, অনির্বাণকে সঙ্গে নিয়ে দেবের ‘দেশু ৭’-এর শুটিং শুরু

টলিউডের অন্দরে দীর্ঘ টানাপোড়েন আর ‘ব্যান কালচার’ বা নিষেধাজ্ঞার রাজনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অবশেষে ফ্লোরে নামলেন সুপারস্টার দেব। রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা ইন্ডাস্ট্রির সমীকরণ যা-ই হোক না কেন, প্রতিভার কদর যে সবকিছুর ঊর্ধ্বে, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন এই অভিনেতা-প্রযোজক। বহুমুখী প্রতিভাধর অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে ঘিরেই ছিল যাবতীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু, যা কাটিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হলো বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘দেশু ৭’-এর দৃশ্যধারণ। সমাজমাধ্যমে শুটিং শুরুর ছবি দিয়ে দেব লিখেছেন, ‘শুটিং মোড অন’।

মেধার জয় ও দেবের অনড় অবস্থান

ইন্ডাস্ট্রির একটি অংশের অলিখিত নিষেধাজ্ঞার কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই কর্মহীন ছিলেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। তবে অভিনেতা হিসেবে অনির্বাণের দক্ষতাকে পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন দেব। ‘রঘু ডাকাত’ ছবির সাফল্যের পর ‘দেশু ৭’-এ অনির্বাণকে নেওয়ার বিষয়ে শুরু থেকেই নাছোড়বান্দা ছিলেন তিনি। এমনকি টলিউডের প্রথাগত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ৭২ ঘণ্টার যে চ্যালেঞ্জ দেব ছুড়ে দিয়েছিলেন, তার সফল পরিণতি দেখা গেল শুটিং ফ্লোরে। সহকর্মীর কাজের অধিকার রক্ষায় দেবের এই লড়াইকে সাধারণ দর্শক ও ভক্তরা সাধুবাদ জানিয়েছেন।

পরিবর্তিত টলিউড ও পেশাদারিত্বের চ্যালেঞ্জ

২০২৬-এর নির্বাচন পরবর্তী সময়ে টলিউডের প্রশাসনিক কাঠামোতেও বড়সড় রদবদল এসেছে। নতুন নেতৃত্বের আগমনে যখন ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে নানা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, ঠিক সেই আবহে দেবের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মতো জ্যেষ্ঠ অভিনেতাদের সঙ্গে মতান্তর কিংবা ‘সুবিধাবাদী’ তকমা—সব সমালোচনাকে পেছনে ফেলে দেব প্রমাণ করলেন যে চলচ্চিত্রের স্বার্থে শিল্পী চয়নই শেষ কথা।

এই ঘটনার ফলে টলিউডে ‘ব্যান কালচার’ বা শিল্পী বয়কটের সংস্কৃতি ভবিষ্যতে অনেকটাই স্তিমিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ পাওয়ার পরিবেশ তৈরি হলে বাংলা সিনেমার মানোন্নয়ন ঘটবে। ‘দেশু ৭’-এর মাধ্যমে পর্দায় ফের অনির্বাণের দাপুটে অভিনয় দেখার অপেক্ষায় এখন দিন গুনছেন চলচ্চিত্র প্রেমীরা। দেবের এই নৈতিক জয় আদতে গোটা ইন্ডাস্ট্রির পেশাদারিত্বেরই জয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *