জ্বালানির দামে বড় ধাক্কা, মহার্ঘ্য হতে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস!
প্রায় চার বছর পর দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম একলাফে অনেকটা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন হার অনুযায়ী, দুই জ্বালানি তেলের দামই লিটারপিছু প্রায় ৩ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৯৭.৭৭ টাকা ও ৯০.৬৭ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যের অস্থিরতা এবং পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরেই রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি এই মূল্যবৃদ্ধির পথে হেঁটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিবহণ ও খাদ্যপণ্যে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব
পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে পরিবহণ ব্যবস্থার ওপর। ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে বাস, ট্রাক এবং মালবাহী গাড়ির খরচ বাড়বে, যা পরোক্ষভাবে সবজি, ফল, দুধ, চাল ও ডালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাজারদর বাড়িয়ে দেবে। ইতিমধ্যেই আমূল এবং মাদার ডেয়ারির মতো সংস্থাগুলি দুধের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পণ্য সরবরাহকারী সংস্থাগুলিও তাদের লজিস্টিক খরচ সামলাতে অনলাইন ডেলিভারি চার্জ বৃদ্ধি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কৃষি ও সাধারণ মধ্যবিত্তের উদ্বেগ
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি শুধুমাত্র শহরের যাতায়াত খরচে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত ট্র্যাক্টর ও সেচ পাম্প ডিজেল চালিত হওয়ায় চাষের খরচ বেড়ে যাবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, পরিবহণ ব্যয় বাড়লে তা উৎপাদন ও পরিষেবা খাতের প্রতিটি স্তরে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি করে। ফলে আগামী দিনে সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেটে বড়সড় টান পড়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠছে।