সরকারি হাসপাতালের বেহাল দশা দেখে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যসচিব, সাফাই নিয়ে জারি একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ

নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শনের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। সম্প্রতি একটি সরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ডের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী এবং দ্রুত তা পরিষ্কারের নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর এই কড়া মনোভাবের পরেই কলকাতার পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজ ও চারটি টিচিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম। বৈঠক সূত্রে খবর, হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও নিম্নমানের পরিষেবা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খোদ স্বাস্থ্যসচিব।

রোগী সুরক্ষায় গাফিলতি ও ক্ষোভের কারণ

কলকাতার একাধিক সরকারি হাসপাতালের দেওয়ালে পানের পিক, মেঝের ওপর যত্রতত্র পড়ে থাকা তুলো ও গ্লাভসের মতো বিপজ্জনক মেডিক্যাল বর্জ্য এবং ওয়ার্ডের ভেতরে বিড়াল-ইঁদুরের অবাধ বিচরণ দীর্ঘদিনের চেনা ছবি। এই চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের পাশাপাশি হাসপাতালের শৌচাগারগুলির শোচনীয় দশা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বাস্থ্যসচিব। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসপাতালের টয়লেটগুলি রোগী বা তাঁদের পরিজনদের ব্যবহারের একেবারেই অযোগ্য। মূলত প্রশাসনের এই দীর্ঘমেয়াদি উদাসীনতা এবং মন্ত্রীর ক্ষোভের কারণেই স্বাস্থ্য দফতরকে এই জরুরি পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।

হাল ফেরাতে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ

হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে আনতে স্বাস্থ্যভবনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এখন থেকে সাফাইকর্মীদের কাজের রদবদল ঘটানোর পাশাপাশি তাঁদের নতুন করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। হাসপাতালের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সপ্তাহে অন্তত তিনবার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিষ্কার করতে হবে। পরিচ্ছন্নতার এই পুরো প্রক্রিয়াটি ঠিকমতো চলছে কি না, তা সরাসরি তদারকি করবেন সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষরা। এর পাশাপাশি হাসপাতালগুলির প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্যভবনের শীর্ষ আধিকারিকরা যেকোনো সময় আকস্মিক পরিদর্শনে (সারপ্রাইজ ভিজিট) যাবেন বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

সম্ভাব্য প্রভাব

স্বাস্থ্য দফতরের এই কঠোর অবস্থানের পর কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলি ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণ সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। প্রশাসনের এই নজরদারির ফলে হাসপাতালগুলির দীর্ঘদিনের নোংরা পরিবেশ দূর হবে এবং রোগীরা একটি সুস্থ ও সংক্রমণমুক্ত পরিবেশে চিকিৎসা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কর্তব্যে গাফিলতি রুখতে কর্তৃপক্ষের এই কড়া নজরদারি আগামীদিনে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *