মেডিক্যাল প্রবেশিকায় ওএমআর যুগের অবসান, আগামী বছর থেকেই অনলাইনে নিট পরীক্ষা
দেশজুড়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং নানাবিধ বিতর্কের অবসান ঘটাতে এবার আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট ইউজি)। ২০২৭ সাল থেকে আর অফলাইনে ওএমআর শিটে পরীক্ষা হবে না, বরং সম্পূর্ণ কম্পিউটার-ভিত্তিক বা সিবিটি (CBT) মোডে অনলাইনে এই পরীক্ষা নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান স্বয়ং এই বড় ঘোষণা করেছেন। মূলত পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রশ্ন ফাঁসের মতো ঘটনা রুখতেই কেন্দ্রীয় সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সরকার ছাত্রছাত্রীদের উদ্বেগকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে এবং পরীক্ষায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরীক্ষা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে লড়াই করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন বা কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষা চালু হলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা যেমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, তেমনই অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নির্ভুলভাবে ফলপ্রকাশ করা সম্ভব হবে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য বড় বদল
এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে পরীক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে পরীক্ষার ধরনে। এখন থেকে আর কাগজের ওএমআর শিটে বৃত্ত ভরাট করার প্রয়োজন পড়বে না, বরং কম্পিউটারের স্ক্রিনে সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করতে হবে। যদিও পরীক্ষার মূল সিলেবাস ও কাঠামো অপরিবর্তিত থাকছে, তবুও শিক্ষার্থীদের এখন থেকে ডিজিটাল পরীক্ষার পরিবেশের সাথে অভ্যস্ত হতে হবে। অন-স্ক্রিন টুল ব্যবহার, প্রশ্নের মধ্যে দ্রুত নেভিগেশন এবং কম্পিউটারে পরীক্ষা দেওয়ার নিয়মিত অনুশীলনই হবে আগামী দিনে সফল হওয়ার মূল চাবিকাঠি।
চলতি বছরের পুনঃপরীক্ষা ২১ জুন
গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া ২০২৬ সালের নিট পরীক্ষা নিয়ে একাধিক অভিযোগ ওঠার পর অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং বিভিন্ন রাজ্যের তথ্যের ভিত্তিতে পূর্বের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে সিবিআই তদন্ত চলছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) চলতি বছরের পুনঃপরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে। আগামী ২১ জুন এই পরীক্ষা পুনরায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
বিপর্যস্ত পড়ুয়াদের মানসিক চাপ কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পুনঃপরীক্ষার জন্য পরীক্ষার্থীদের নতুন করে কোনো ফি দিতে হবে না এবং আগামী ১৪ জুন পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড প্রকাশ করা হবে। এছাড়া, পরীক্ষার্থীরা যাতে নিজেদের সুবিধাজনক শহর বেছে নিতে পারেন, তার জন্য আগামী এক সপ্তাহ সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।