বেকারদের জন্য নতুন দিশা নাকি নির্বাচনী চমক, কতখানি ভরসা জোগাবে বিজেপির ‘যুবশক্তি কার্ড’!
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আবহে বেকার যুবকদের পাশে টানতে এক বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল বিজেপি। রাজ্যে পূর্বে চলমান ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের বিকল্প হিসেবে তারা নিয়ে এসেছে ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’। এই নতুন প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের বেকার যুবকদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা আগের প্রকল্পের তুলনায় দ্বিগুণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক মুখে ভোটারদের বড় অংশ তথা তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের অনুকূলে আনতেই এই মাস্টারস্ট্রোক দেওয়া হয়েছে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হওয়া যুবসাথী প্রকল্পে দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ বেকারদের চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জন্য প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে দেওয়া হতো। তরুণ সমাজকে নিজেদের দিকে টানতে বিজেপি এবার সেই ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে সরাসরি ৩,০০০ টাকা করার ঘোষণা করেছে, যা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
কবে থেকে মিলবে সুবিধা এবং আবেদনের যোগ্যতা
বর্তমানে রাজ্যে পুরোনো প্রকল্পটি সচল থাকলেও, রাজনৈতিক সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে যে নতুন সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের পর ২০২৬ সালের জুন মাস থেকে এই নতুন ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’-এর জন্য অনলাইন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে এর জন্য আবেদনকারীদের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে ন্যূনতম মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। এর পাশাপাশি আবেদনকারীকে অবশ্যই বর্তমানে বেকার হতে হবে এবং স্থানীয় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নাম নথিভুক্ত থাকতে হবে।
আবেদনের প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নথি
অনলাইন পোর্টালটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে ওটিপি (OTP) জেনারেট করতে হবে। এরপর ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত তথ্যের পাশাপাশি এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের বিবরণ দিয়ে আবেদনপত্রটি পূরণ করতে হবে। আবেদনের জন্য ভোটার আইডি, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কশিট, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ব্যাঙ্কের পাসবুক, সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং [Aadhaar Redacted] এর মতো প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। সমস্ত নথির স্পষ্ট কপি আপলোড করার পর চূড়ান্ত সাবমিশন সম্পন্ন হলে একটি ইউনিক অ্যাপ্লিকেশন আইডি তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই প্রকল্প চালুর প্রধান কারণ হলো রাজ্যের একটি বড় অংশের বেকার যুবকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থানের অভাবজনিত অসন্তোষ প্রশমিত করা। এর ফলে একদিকে যেমন বেকার যুবকরা সাময়িক আর্থিক স্বস্তি পাবেন, অন্যদিকে রাজ্য সরকারের রাজকোষের ওপর বিপুল আর্থিক চাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থান তৈরির পরিবর্তে এই ধরনের নগদ অর্থ প্রদানের নীতি রাজ্যের অর্থনীতিতে স্থায়ী সুফল আনবে নাকি তা কেবলই একটি সাময়িক উপশম হিসেবে থেকে যাবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে।