মহারাষ্ট্রে মিলল মধ্যপ্রদেশের তরুণীর আধপোড়া মুণ্ড, অনার কিলিংয়ের নৃশংস ছক ফাঁস করল পুলিশ!
মহারাষ্ট্রের বুলধানা জেলার একটি নির্জন খেতে গত ২৬ এপ্রিল উদ্ধার হয়েছিল এক তরুণীর বীভৎস আধপোড়া কাটা মুণ্ড ও ধড়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ যে সত্যের মুখোমুখি হয়েছে, তা এককথায় শিউরে ওঠার মতো। প্রতিবেশী রাজ্য মধ্যপ্রদেশ থেকে শুরু হওয়া এক পারিবারিক বিরোধের নির্মম পরিণতি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের এই নির্জন খেতে। তথাকথিত ‘সম্মান রক্ষা’ বা ‘অনার কিলিং’-এর জেরে নিজের ২৪ বছর বয়সী মেয়ে শিবানীকে খুন করার অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেছে তাঁরই বাবা বাপুরাম নাথু কালমেকার ও ভাইকে।
নিখোঁজ ডায়েরি থেকে খুনের সূত্রপাত
ঘটনার পর বুলধানার পুলিশ সুপার নীলেশ তাম্বের নির্দেশে তদন্তে নামে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। মৃতদেহের পরিচয় জানা অসম্ভব হয়ে পড়ায় পুলিশ মহারাষ্ট্রের জলগাঁও, অমরাবতী, আকোলা এবং মধ্যপ্রদেশের একাধিক জেলায় নিখোঁজ ডায়েরিগুলো খতিয়ে দেখতে শুরু করে। গত ১ মে মধ্যপ্রদেশের বুরহানপুর জেলার খাকনার থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরির সূত্র ধরে পুলিশ শিবানীর পরিবারের সন্ধান পায়। সেখানে বাবা বাপুরাম নিজেই অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁর মেয়ে ২৫ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ। কিন্তু বয়ানের অসঙ্গতি দেখে পুলিশ বাপুরাম ও তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য।
প্রেমের টানাপোড়েন ও নৃশংস পরিণতি
পুলিশি জেরায় বাপুরাম স্বীকার করেছে, অমরাবতীর বাসিন্দা প্রকাশ ভিলাওকরের সঙ্গে শিবানীর বিয়ে হলেও, তিনি তাঁর এক খুড়তুতো ভাইয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। পরিবারের বারবার নিষেধ সত্ত্বেও শিবানী সেই সম্পর্ক থেকে সরে আসতে রাজি হননি। এই ক্ষোভ থেকেই মেয়েকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে একটি বড় বাঁশের লাঠি দিয়ে শিবানীর মাথায় সজোরে আঘাত করে তাঁকে খুন করা হয়। এরপর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে করে দেহটি বুলধানার নির্জন খেতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে শরীর থেকে মাথা আলাদা করে ধড় ও মুণ্ডু উভয় অংশেই আগুন ধরিয়ে দেয় বাবা ও ভাই। মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র পুলিশের যৌথ তৎপরতায় বর্তমানে দুই অভিযুক্তই গ্রেফতার হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।