ভোট বিপর্যয়ের পর ভাঙন রুখতে মরিয়া তৃণমূল, ঘরছাড়াদের পাশে দাঁড়াতে নামছে তিনটি বিশেষ দল
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই জেলায় জেলায় শাসকদলের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা এবং ‘ঘরছাড়া’ হওয়ার ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠছিল। নির্বাচনের এই বিপর্যয়ের পর যেখানে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে দলের প্রথম সারির নেতাদের দেখা মিলছিল না, সেখানে সংগঠনের এই চরম বিপর্যয় রুখতে অবশেষে নড়েচড়ে বসল কালীঘাট। ভোট-পরবর্তী হিংসার শিকার হওয়া বিপন্ন কর্মী ও তাঁদের পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে তিনটি বিশেষ ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম’ বা তথ্য অনুসন্ধানকারী দল গঠন করল তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী শনিবার থেকেই এই দলগুলি জেলা সফরে বেরোচ্ছে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ দলগুলি বিভিন্ন জেলায় আক্রান্তদের বাড়ি পরিদর্শন করবে এবং বিজেপির হাতে নিহত ও ঘরছাড়া হওয়া কর্মীদের পরিজনদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেবে। এই দলগুলিতে মূলত দলের সাংসদ, দক্ষ সংগঠক, তরুণ মুখ এবং বুদ্ধিজীবীদের শামিল করা হয়েছে। প্রথম দলে রয়েছেন সাংসদ সুস্মিতা দেব, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাজদা আহমেদ। দ্বিতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দোলা সেন, মহম্মদ নাদিমুল হক ও শর্মিলা সরকারের মতো অভিজ্ঞ নেতাদের। অন্যদিকে, আদিবাসী ও তরুণ মুখদের নিয়ে গঠিত তৃতীয় দলটিতে রয়েছেন প্রতিমা মণ্ডল, সামিরুল ইসলাম ও বীরবাহা হাঁসদা।
ক্ষত মেরামতের মরিয়া চেষ্টা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীরা যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও সাংগঠনিক সংকটে ভুগছেন, তা স্পষ্ট। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর গেরুয়া ঝড়ে বেসামাল হয়ে পড়েছে ঘাসফুল শিবিরের সংগঠন। এমন পরিস্থিতিতে শীর্ষ নেতৃত্ব যদি অবিলম্বে ময়দানে না নামেন, তবে অবশিষ্ট সংগঠনটুকুও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব
তৃণমূলের এই আকস্মিক তৎপরতাকে মূলত একটি ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বা ক্ষত মেরামতের কৌশল হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। এই সফরের মাধ্যমে নিচুতলার কর্মীদের মনোবল ফিরিয়ে আনা এবং ভেঙে পড়া সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করাই এখন নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য। তবে এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম মাঠপর্যায়ে গিয়ে কতটা ক্ষোভ প্রশমন করতে পারে এবং ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরাতে আইনি ও সামাজিক নিরাপত্তা দিতে পারে, তার ওপরেই নির্ভর করছে দলের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক অস্তিত্ব।