ফলতায় ভোটের আগে রহস্যঘেরা এন্ট্রি, জাহাঙ্গিরের মন্তব্যে নতুন জল্পনা

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র। গত ২৯ এপ্রিলের ভোটগ্রহণে একাধিক অনিয়ম ও অশান্তির জেরে গোটা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে আগামী ২১ মে ‘ফ্রেশ পোল’ বা নতুন করে সম্পূর্ণ ভোটগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই পুনর্নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ফলতা জুড়ে রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। একদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মেগা প্রচারের প্রস্তুতি, অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের প্রকাশ্য উপস্থিতি— সব মিলিয়ে ফলতা এখন রাজ্যের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

শুভেন্দুর হাইভোল্টেজ প্রচার ও প্রশাসনিক তৎপরতা

বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডার সমর্থনে ফলতায় কোমর বেঁধে নামছে গেরুয়া শিবির। আগামী শনিবার ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার আধিকারিকদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকের পর ফলতা বাসস্ট্যান্ডে বিজেপির কর্মিসভায় যোগ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এখানেই শেষ নয়, প্রচারের শেষ দিন অর্থাৎ ১৯ মে ফলতা জুড়ে মুখ্যমন্ত্রীর রোড শো করারও কথা রয়েছে। মূলত গত ২৯ এপ্রিলের অশান্তির পর প্রশাসনিক রাশ শক্ত করা এবং দলের কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করতেই বিজেপির এই হাইপ্রোফাইল প্রচার পরিকল্পনা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

অন্তরাল ভেঙে মাঠে জাহাঙ্গির, প্রচার ছাড়াই জয়ের দাবি

ভোট বাতিলের পর থেকে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে এলাকায় দেখা না যাওয়ায় বিরোধীরা দাবি করেছিল, তিনি পরিস্থিতির চাপে আত্মগোপন করেছেন। তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ ও পুলিশের সহযোগিতায় ফের নিজের বাড়িতে ফিরেছেন তিনি। ৪ মে-র পর এতদিন প্রকাশ্যে না আসার কারণ হিসেবে জাহাঙ্গির দাবি করেছেন, রাজনৈতিক অশান্তি ও সংঘর্ষ এড়াতে এবং দলের কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনি নিজেকে আড়ালে রেখেছিলেন।

তবে নতুন করে ভোট সামনে থাকলেও আলাদা করে প্রচারের কোনো প্রয়োজন নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর দাবি, এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গভীর ও আবেগের। বিগত বছরগুলোর উন্নয়নের খতিয়ান সাধারণ মানুষের জানা রয়েছে বলেই তিনি মনে করেন। আইপিএস অজয় পাল শর্মার প্রশাসনিক তৎপরতা ও বিজেপির কটাক্ষের জবাবে জাহাঙ্গির উল্টো প্রশ্ন তুলেছেন, যদি পুলিশ প্রশাসন ঠিকঠাকই দায়িত্ব পালন করে থাকে, তবে কমিশন কেন পুরো কেন্দ্রের ভোট বাতিল করল? বিজেপির ৩২টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবির বিপরীতে কেন কমিশনকে ‘ফ্রেশ পোল’-এর সিদ্ধান্ত নিতে হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

ভোট বাতিলের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রথম দফার ভোটগ্রহণে ব্যাপক কারচুপি, বুথ দখল এবং প্রিসাইডিং ও রিটার্নিং অফিসারদের বিতর্কিত ভূমিকার কারণেই কমিশন ফলতার ভোট পুরোপুরি বাতিলের মতো কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। যার জেরে ইতিমধ্যেই শাস্তির মুখে পড়েছেন একাধিক আধিকারিক, জাহাঙ্গির-ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে এফআইআর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফ্রেশ পোল শুধু দুই প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, বরং এই নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য প্রশাসনের কাছেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শুভেন্দু অধিকারীর আক্রমণাত্মক প্রচার বনাম জাহাঙ্গির খানের বুথ স্তরের জনসংযোগের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ফলতার রায় কার দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *