কলকাতার রাস্তায় কি কমবে বেসরকারি বাস? ভাড়া বিতর্কে নতুন মোড়

রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থায় বড়সড় সংকটের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। পেট্রোল ও ডিজেলের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিঠ ঠেকেছে দেওয়ালে, আর এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ফের ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে সরব হয়েছেন বেসরকারি বাস মালিকরা। সম্প্রতি ‘সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিস’ সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্যের পরিবহণ সচিবকে একটি চিঠি দিয়ে দ্রুত ভাড়া বাড়ানোর আর্জি জানানো হয়েছে। মালিকদের সাফ হুঁশিয়ারি, অবিলম্বে ভাড়া না বাড়লে অচিরেই রাস্তা থেকে উধাও হয়ে যাবে বেসরকারি বাস।

জ্বালানির দাম বাড়লেও আট বছর আগের ভাড়ায় স্থবির পরিষেবা

পরিবহণ সচিবকে দেওয়া চিঠিতে পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক টিটো সাহা জানিয়েছেন, রাজ্যে শেষবার বাসের ভাড়া সংশোধন করা হয়েছিল ২০১৮ সালে। সেই সময় কলকাতায় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ছিল ৬৮ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২.০৪ টাকায়। অর্থাৎ গত কয়েক বছরে জ্বালানির দাম বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ, অথচ ভাড়ার তালিকা রয়ে গিয়েছে সেই তিমিরেই। শুধু জ্বালানি নয়, বাসের যন্ত্রাংশ, বিমা এবং কর্মচারীদের বেতনও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। বর্তমান কাঠামোয় লাভ তো দূরের কথা, দৈনিক বাস চালানোর খরচ তোলাই এখন মালিকদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কমিটির রিপোর্ট ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই

বাস মালিকদের অন্যতম প্রধান অভিযোগ হলো সরকারের উদাসীনতা। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ এবং ২০২১ সালে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকার দু’টি পৃথক কমিটি গঠন করলেও সেই রিপোর্ট আজও জনসমক্ষে আনা হয়নি। বারবার আবেদন সত্ত্বেও সরকার কোনো সদর্থক পদক্ষেপ না করায় ক্ষোভ বাড়ছে পরিবহণ মহলে। লোকসান সামলাতে না পেরে অনেক মালিক ইতিপূর্বেই বাস তুলে নিয়েছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কয়েক লক্ষ শ্রমিক ও হাজার হাজার মালিকের জীবনজীবিকার ওপর।

পরিষেবা সচল রাখতে ন্যায্য ভাড়ার দাবি

বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতি থেকে গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে মুক্ত করতে একটি ‘ন্যায্য ভাড়া’ কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিস। তাদের মতে, সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে এতদিন লোকসান সয়ে পরিষেবা দেওয়া হলেও এখন আর তা সম্ভব হচ্ছে না। পরিবহণ ব্যবস্থাকে ‘অসুস্থ’ দশা থেকে বাঁচাতে সহানুভূতির সঙ্গে দ্রুত ভাড়া বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি জারির আর্জি জানানো হয়েছে। নবান্ন তথা পরিবহণ দফতর এখন এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে শহর ও শহরতলির লক্ষ লক্ষ নিত্যযাত্রীর ভাগ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *