অধ্যাপক পদের আবেদন ফি ২৫০০ টাকা, কলেজ সার্ভিস কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষোভ হবু শিক্ষকদের
পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশনের (WBCSC) ২০২৬ সালের অধ্যাপক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আবেদন ফির মাত্রাতিরিক্ত হার এবং ইউজিসি (UGC) নিয়ম লঙ্ঘনের মতো একাধিক অভিযোগে সোচ্চার হয়েছেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষিত কর্মপ্রার্থীরা। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে এবং দ্রুত হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি পাঠিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল।
বিজ্ঞপ্তির একাধিক নিয়ম নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। নবান্নে পাঠানো চিঠিতে মূলত চারটি প্রধান সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, ইউজিসি-র নিয়ম অনুযায়ী অধ্যাপক নিয়োগে পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের জন্য ৩০ নম্বর বরাদ্দ থাকার কথা থাকলেও, কমিশন এবার মাত্র ১০ নম্বর ধার্য করেছে। গবেষকদের একাংশ একে তাঁদের দীর্ঘ পরিশ্রমের প্রতি বঞ্চনা হিসেবে দেখছেন। দ্বিতীয়ত, রাজ্যে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪০ বছর হওয়ায়, নিয়োগের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থী সুযোগ হারাচ্ছেন। অন্যান্য রাজ্যের মতো এখানেও বয়সসীমা বাড়িয়ে ৪৫ বছর করার দাবি উঠেছে।
অর্থনৈতিক চাপ ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে ২,৫০০ টাকার বিপুল আবেদন ফি নিয়ে। কর্মহীন গবেষক ও সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রার্থীদের জন্য এই অর্থ জোগাড় করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রার্থীরা এই ফি কমিয়ে একটি ন্যায্য ও নামমাত্র স্তরে আনার দাবি জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শুধুমাত্র ইন্টারভিউ-ভিত্তিক সিলেকশন পদ্ধতি বাতিল করে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাইয়ের দাবিও তোলা হয়েছে।
সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি ও সম্ভাব্য প্রভাব
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১৫ মে, ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ ছিল। তবে নিয়মের জটিলতা এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বহু প্রার্থী নির্দিষ্ট সময়ে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে আবেদনের সময়সীমা অন্তত আরও এক মাস বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রার্থীরা। প্রায় ১০ জন চাকরিপ্রার্থীর স্বাক্ষর সম্বলিত এই চিঠিটি এখন রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের বিবেচনাধীন। উচ্চশিক্ষিত যুবসমাজের এই ক্ষোভ যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে তা রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রে এবং মেধা আকর্ষণের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন রাজ্য সরকার বা কলেজ সার্ভিস কমিশন এই বিজ্ঞপ্তিতে কোনো সংশোধন আনে কি না, সেটাই দেখার।