জ্বালানির চড়া দামে পকেট পুড়ছে মধ্যবিত্তের, ক্ষতি সামাল দিতে কি আরও বাড়বে পেট্রোল-ডিজেলের দাম!
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব এবার সরাসরি এসে পড়ল ভারতের সাধারণ মানুষের পকেটে। ইরান-আমেরিকা সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এই সংকটের জেরে দেশের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৩ টাকা এবং সিএনজি-র দাম প্রতি কেজিতে ২ টাকা বৃদ্ধি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের যে পরিস্থিতি, তাতে এই সামান্য মূল্যবৃদ্ধিতে সংকট কাটার কোনো লক্ষণ দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।
দৈনিক ১৬০০ কোটি টাকার বিপুল লোকসান
বিশ্ববাজারে যুদ্ধ শুরুর আগে অপরিশোধিত ক্রুড তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলারের কাছাকাছি, যা বর্তমান পরিস্থিতির জেরে লাফিয়ে ১১০ ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম ৩ টাকা বাড়লেও অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলির রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছে না। বর্তমানে এই সংস্থাগুলিকে প্রতিদিন প্রায় ১৬০০ কোটি টাকার বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকেই এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১.২ লক্ষ কোটি টাকা।
বিকল্প পথের সন্ধান ও আগামী দিনের আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলির কস্ট-রেভেনিউ ঘাটতির ৩০ থেকে ৩৬.৫ শতাংশ পূরণ করতে হলেও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারে অন্তত ২৮ থেকে ৩৩ টাকা বাড়ানো প্রয়োজন। তবে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কথা বিবেচনা করে সরকার এক ধাক্কায় এতটা মূল্যবৃদ্ধি করতে চাইছে না। এই পরিস্থিতিতে ঘাটতি ও সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে গাড়ির ব্যবহার কমানো, ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা বাড়ি থেকে কাজের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা এবং আগামী এক বছর সোনা কেনা, বিদেশ ভ্রমণ ও ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের মতো খরচ কমানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর নিজের কনভয়ের সংখ্যাও হ্রাস করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে আগামী দিনে জ্বালানির মূল্য আরও একদফা বৃদ্ধি পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে।