দিল্লির দরবারে বাংলার গুরুত্ব বৃদ্ধির জল্পনা, ২১ মে জরুরি বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী
পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাম্প্রতিক জয়ের পর জাতীয় রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে দলের আশাতীত সাফল্যের পর এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই রদবদলে বাংলা থেকে কোনো সাংসদ পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে ঠাঁই পাবেন কি না, তা নিয়ে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। এই আবহের মধ্যেই আগামী ২১ মে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
পারফরম্যান্স রিভিউ এবং রদবদলের আবহ
সূত্রের খবর, আগামী ২১ মে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে মূলত বিভিন্ন মন্ত্রক ও দপ্তরের গত দুই বছরের কাজের খতিয়ান বা ‘পারফরম্যান্স রিভিউ’ করা হবে। প্রতিটি দপ্তরকে তাদের কাজের খতিয়ান প্রেজেন্টেশন আকারে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগেও কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে একাধিক মন্ত্রীকে সরিয়ে নতুন মুখ নিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে, এই বৈঠকের পরই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ও রদবদলের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই এই রদবদল সম্পন্ন হতে পারে।
ভূ-রাজনীতি এবং অভ্যন্তরীণ সমীকরণ
এবারের বৈঠকের মূল আলোচ্য সূচিতে যেমন মন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়ন রয়েছে, তেমনই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তার জেরে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক সংকট নিয়ে এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এর পাশাপাশি, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ মেলাতেও এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি পাস হওয়া মহিলা সংরক্ষণ বিলের পর মন্ত্রিসভায় নতুন মহিলা মুখ অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা প্রবল। এছাড়া বিহার ও মহারাষ্ট্রের শরিক দলগুলির প্রতিনিধিদেরও নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়ে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করা হতে পারে।
বাংলার প্রাপ্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২০০-র গণ্ডি পার করে সরকার গঠনের পর থেকেই দিল্লির রাজনীতিতে রাজ্যের ওজন অনেকটাই বেড়েছে। রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও, সবার নজর এখন দিল্লির দিকে। অতীতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে একাধিক প্রতিমন্ত্রী থাকলেও পূর্ণ মন্ত্রীর পদ অধরাই থেকেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় দলের এই বিপুল সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে এবার রাজ্য থেকে এক বা একাধিক সাংসদকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হতে পারে। এর ফলে একদিকে যেমন রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির রূপায়ণ গতি পাবে, অন্যদিকে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় সংগঠনের ভিত আরও মজবুত হবে। তবে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্য খুলছে, তা স্পষ্ট হবে ২১ মে-র মূল্যায়নের পরই।