আদালতের রায়ে বড়সড় স্বস্তি পেলেন রবার্ট বঢরা

কোটি কোটি টাকার জমি দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে বড়সড় স্বস্তি পেলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তথা কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার স্বামী রবার্ট বঢরা। একাধিক কেন্দ্রীয় এজেন্সির নজরদারিতে থাকা এই মামলায় দিল্লির রাউজ এভিনিউ কোর্ট তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করেছে। ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে আদালতের এই রায়ের ফলে আপাতত গ্রেপ্তারি এড়াতে পারলেন ৫৬ বছর বয়সী এই উদ্যোগপতি।

অভিযোগের উৎস ও আইনি টানাপোড়েন

রবার্ট বঢরার সংস্থা ‘স্কাইলাইট হসপিটালিটি’-র বিরুদ্ধে জমি হস্তান্তরে বিপুল অঙ্কের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ঘটনার সূত্রপাত হরিয়ানার গুরগাঁওয়ের শিখহপুর গ্রামের তিন একর জমিকে কেন্দ্র করে। জানা যায়, বঢরার সংস্থা মাত্র ৭.৫ কোটি টাকায় ওই জমিটি কিনেছিল। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে হরিয়ানার নগর পরিকল্পনা দপ্তর বাণিজ্যিক কলোনি স্থাপনের জন্য ওই জমির একটি বড় অংশের লাইসেন্স প্রদান করে। অভিযোগ, ২০১২ সালে বঢরার সংস্থা ডিএলএফ-এর সঙ্গে একটি চুক্তি করে এবং কম দামে কেনা সেই জমিটি বিপুল লাভে প্রায় ৫৮ কোটি টাকায় বিক্রি করে দেয়। সরকারের থেকে কম মূল্যে জমি অধিগ্রহণ করে চড়া দামে বিক্রির এই প্রক্রিয়াতেই বিরাট আর্থিক দুর্নীতির গন্ধ পায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

তদন্তের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

এই জমি দুর্নীতি মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতি ও আইনি মহলে শোরগোল সৃষ্টি করেছে। ইডি ইতিপূর্বে একাধিকবার রবার্ট বঢরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট ও সমন জারি করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারি এড়াতে বঢরা আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত শর্তসাপেক্ষে তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করে।

এই জামিন রবার্ট বঢরা ও গান্ধী পরিবারের জন্য সাময়িক স্বস্তির কারণ হলেও, রাজনৈতিকভাবে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং পরবর্তী সময়েও রবার্ট বঢরা বারবার সক্রিয় রাজনীতিতে আসার এবং সাংসদ হওয়ার সুপ্ত বাসনা প্রকাশ করেছেন। যদিও কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব বা ‘হাত শিবির’ তাঁর সেই অনুরোধে বিশেষ আমল দেয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আইনি জটিলতা থেকে সাময়িক মুক্তি পেলেও এই দুর্নীতির অভিযোগ বঢরার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং কংগ্রেসের ভাবমূর্তির ওপর আগামী দিনেও একপ্রকার চাপ বজায় রাখবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *