নেদারল্যান্ডসের মাটিতেও এবার বাংলার ঝালমুড়ি বন্দনা প্রধানমন্ত্রীর মুখে

পাঁচ দেশীয় সফরের অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি পর্ব শেষ করে নেদারল্যান্ডসে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হেগ শহরে প্রবাসী ভারতীয়দের দেওয়া এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি ভারতের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচন এবং প্রযুক্তির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। তবে সমস্ত আলোচনার মাঝে আলাদা করে নজর কেড়েছে প্রধানমন্ত্রীর মুখে বাংলার বিখ্যাত মুখরোচক খাবার ‘ঝালমুড়ি’র প্রসঙ্গ। সুদূর ইউরোপের মাটিতে বসেও বাংলার এই চেনা স্বাদের উল্লেখ করে তিনি প্রবাসী বাঙালিদের যেমন আবেগ আপ্লুত করেছেন, তেমনই ভারতের গণতান্ত্রিক উৎসবের এক অনন্য চিত্র তুলে ধরেছেন।

বিশ্বমঞ্চে বঙ্গ রাজনীতির চেনা স্বাদ

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে মাছ এবং ঝালমুড়ি রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচারের সময় আচমকা রাস্তার ধারের দোকান থেকে প্রধানমন্ত্রীর ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খাওয়ার দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হয়। রাজনৈতিক মহলে এই নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিস্তর চর্চাও চলে। নেদারল্যান্ডসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় প্রধানমন্ত্রী যখন অসম ও বাংলার নির্বাচনের প্রসঙ্গ তোলেন, তখন উপস্থিত প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সেই সময় স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বক্তৃতা থামিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, “ঝালমুড়ি কি এখানেও পৌঁছে গিয়েছে?” তাঁর এই রসাত্মক মন্তব্যে পুরো সভাগৃহ হাততালিতে ফেটে পড়ে, যা প্রমাণ করে যে নির্বাচনী আবহ কাটলেও বাংলার সেই টক-ঝাল-মিষ্টি স্বাদ এখনও ফিকে হয়নি।

গণতান্ত্রিক সচেতনতা ও বৈশ্বিক প্রভাব

হালকা ছলের এই আলোচনার আড়ালে প্রধানমন্ত্রী ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন। অসম, পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির মতো রাজ্যগুলোতে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোট পড়ার ঘটনাকে তিনি ভারতের মজবুত গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। বিশেষ করে এই নির্বাচনগুলোতে নারীদের রেকর্ডসংখ্যক অংশগ্রহণ ভারতীয় রাজনীতির এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই ধরনের ঘরোয়া ও সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গের ব্যবহার প্রবাসীদের দেশের মাটির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করে এবং বিশ্ব দরবারে ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির একটি প্রাণবন্ত ছবি উপস্থাপন করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *