বৃন্দাবনে পরমানন্দ মহারাজের দরবারে কৈলাশ খেরের সুরেলা ভক্তি, ‘বাম লহেরি’ গেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়

আধ্যাত্মিক চেতনা আর সুরের মেলবন্ধনে বৃন্দাবনের এক আশ্রমে তৈরি হলো এক অনন্য মুহূর্ত। আধ্যাত্মিক গুরু পরমানন্দ মহারাজের দরবারে হাজির হয়ে নিজের জনপ্রিয় শিবভজন গেয়ে নেটদুনিয়ায় বিপুল সাড়া ফেলেছেন প্রখ্যাত বলিউড গায়ক কৈলাশ খের। ‘ভজন মার্গ’ ইউটিউব চ্যানেলে এই সাক্ষাতের ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। বিনোদন জগতের তারকাদের মাঝে বৃন্দাবনের এই আশ্রমের জনপ্রিয়তা যেমন বাড়ছে, তেমনি কৈলাশ খেরের এই ভক্তিপূর্ণ উপস্থিতি আধ্যাত্মিক সঙ্গীতের শক্তিকে আবারও প্রমাণ করেছে।

মহাদেবের বন্দনায় ভক্তিমগ্ন গায়ক

বৃন্দাবনে পরমানন্দ মহারাজের আশীর্বাদ নিতে গিয়ে কৈলাশ খের অত্যন্ত ভক্তিভরে মহারাজের হাতে ময়ূরের পালক দিয়ে তৈরি একটি বিশাল মালা উপহার হিসেবে তুলে দেন। তবে মূল আকর্ষণ তৈরি হয় যখন গায়ক আশ্রমের শান্ত পরিবেশে বসে তাঁর কালজয়ী শিবভজন ‘বাম লহেরি’ পরিবেশন শুরু করেন। সুরের জাদুতে তিনি নিজেই ভক্তির চরম শিখরে পৌঁছে যান। গান গাওয়ার সময় কখনও চোখ বন্ধ করে ঈশ্বরের আরাধনায় মগ্ন ছিলেন, আবার কখনও সুরের তালে আবেগে নাচতেও দেখা যায় এই সুফি গায়ককে। পরমানন্দ মহারাজকেও অত্যন্ত প্রশান্তচিত্তে এবং হাসিমুখে সেই গান উপভোগ করতে দেখা যায়। আশ্রম ছাড়ার আগে কৈলাশ খের ভক্ত মীরাবাঈকে উৎসর্গ করে আরও একটি ভক্তিগীতি গেয়ে শোনান, যা শুনে মহারাজ স্বয়ং তাঁর কণ্ঠের উচ্চ প্রশংসা করেন।

জনপ্রিয়তার কারণ ও সামাজিক প্রভাব

২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া কৈলাশ খের ও তাঁর ব্যান্ড ‘কৈলাসা’-এর ‘বাম লহেরি’ গানটি দীর্ঘ দুই দশক ধরে শিবভক্তদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বর্তমান যুগে দ্রুতগতির ও আধুনিক সঙ্গীতের ভিড়ে এই ধরণের খাঁটি ভক্তিমূলক ও সুফি গান মানুষের মনে গভীর প্রভাব বিস্তার করে। ডিজিটাল মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার প্রধান কারণ হলো গায়কের কোনো কৃত্রিমতাহীন ও সম্পূর্ণ নিবেদিতপ্রাণ পারফরম্যান্স, যা সাধারণ নেটিজেনদের আবেগ ছুয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, কৈলাশের কণ্ঠে এই ভজন শুনলে এক ঐশ্বরিক অনুভূতি তৈরি হয়। এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে যে, আধুনিকতার মাঝেও সনাতন আধ্যাত্মিক সঙ্গীত ও গুরু-শিষ্যের ঐতিহ্যগত সংস্কৃতির প্রতি মানুষের আকর্ষণ ও শ্রদ্ধা আজও কতটা অমলিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *