বিজেপি কর্মীদের ‘জরিমানার’ টাকা ফেরত দিল তৃণমূল, বীরভূমে পালাবদলের জের!
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পরপরই দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে রাজ্যের রাজনৈতিক চালচিত্র। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের তোলাবাজি বা বেআইনি অর্থ আদায় বরদাস্ত করা হবে না। এই কড়া বার্তার রেশ ধরেই এবার বীরভূমে ভোট-পরবর্তী হিংসার জেরে ঘরছাড়া বিজেপি কর্মীদের থেকে নেওয়া ‘জরিমানা’র লাখ লাখ টাকা ফেরত দিল স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। শান্তিনিকেতন থানা এলাকার প্রায় ১১ জন বিজেপি কর্মী ইতিমধ্যে তাঁদের খোয়ানো টাকা ফেরত পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘরছাড়া জীবনের অবসান ও জরিমানার কোপ
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর বীরভূমের নানুর বিধানসভা এলাকার কঙ্কালী ও তার আশপাশের অঞ্চলে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। বহু বিজেপি কর্মী ঘরছাড়া হন, যাঁদের কেউ ছ’মাস আবার কেউ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বাড়ির বাইরে কাটাতে বাধ্য হয়েছিলেন। অভিযোগ, এলাকায় নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরে আসার শর্ত হিসেবে তাঁদের ওপর ৫০ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ধার্য করা হয়েছিল। আক্রান্তদের আর্থিক অবস্থা এবং ব্যবসার ওপর ভিত্তি করে এই জরিমানার অঙ্ক ঠিক করত স্থানীয় প্রভাবশালীরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, এক যুব বিজেপি নেতাকে বাড়ি ফেরার টাকা জোগাড় করতে নিজের ঘর পর্যন্ত বিক্রি করে দিতে হয়েছিল।
প্রশাসনের কড়া বার্তা ও প্রভাব
রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করার ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দিয়েছেন। কোনো অপরাধের ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক রং না দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কড়া অবস্থানের কারণেই বীরভূমের হাসনের তৃণমূল বিধায়ক কাজল শেখের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মামন শেখ এবং অঞ্চল দায়িত্বপ্রাপ্ত আলেখ শেখ নিজেরা উদ্যোগী হয়ে এই টাকা ফেরত দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের এই কঠোর মনোভাবের কারণেই পুরোনো শাসকদলের নিচুতলার নেতারা আইনি ব্যবস্থা ও শাস্তির হাত থেকে বাঁচতে তড়িঘড়ি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।