শহরভেদে ৪০% পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া! বেতন কমিশনে একগুচ্ছ দাবি পেশ কর্মচারী সংগঠনের
অষ্টম বেতন কমিশনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে উত্তাল কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মহল। ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি (NC-JCM) সম্প্রতি কমিশনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে, যেখানে বেতন ও ভাতার আমূল পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কমিশন এখন বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের সাথে নিবিড় আলোচনা চালাচ্ছে, যার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে আগামী দিনের বেতন কাঠামো ও ইনক্রিমেন্টের হার।
বেসিক পে-র সাথে মহার্ঘ ভাতা সংযুক্তির প্রস্তাব
কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় দাবিটি হলো মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং মূল বেতনের সংযুক্তিকরণ। বর্তমানে ডিএ ৬০ শতাংশের গণ্ডি ছুঁলেও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যে, যখনই মহার্ঘ ভাতা ২৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে, তখনই যেন তা মূল বেতনের সাথে যুক্ত করে দেওয়া হয়। এর ফলে কর্মীদের মূল বেতন যেমন বাড়বে, তেমনি গ্র্যাচুইটি ও অবসরের পরবর্তী সুযোগ-সুবিধাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বাজারদরের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটাতে প্রতি ৬ মাস অন্তর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মূল্যায়নের দাবিও জানানো হয়েছে।
ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার আমূল পরিবর্তনের প্রভাব
বেতনের পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া বা এইচআরএ (HRA) এবং অন্যান্য ভাতার ক্ষেত্রেও ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দাবি করা হয়েছে যে এক্স-শ্রেণির শহরগুলোর জন্য এইচআরএ মূল বেতনের ৪০ শতাংশ করা হোক। এছাড়া যাতায়াত ভাতা, নার্সিং ভাতা ও পোশাক ভাতার মতো অন্যান্য সুবিধাগুলো তিন গুণ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রস্তাবগুলো কার্যকর হলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জীবনযাত্রার মান ও আর্থিক সক্ষমতায় এক বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এক ঝলকে
- ডিএ ২৫ শতাংশ ছাড়ালেই তা মূল বেতনের সাথে যুক্ত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
- বড় শহরগুলোতে বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) মূল বেতনের ৪০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
- যাতায়াত ও নার্সিং সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভাতা ৩ গুণ বৃদ্ধির আবেদন করেছে কর্মচারী সংগঠন।
- সরকারি দরের বদলে বাজারমূল্যের ভিত্তিতে বার্ষিক বেতন ও ভাতার হিসাব করার দাবি উঠেছে।