নিয়ম সবার আগে! নিয়মবহির্ভূত সরকারি নিয়োগ বাতিল করে নজির গড়ল সুপ্রিম কোর্ট
সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এক যুগান্তকারী রায় দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জে.কে. মহেশ্বরী এবং বিচারপতি এ.এস. চন্দুরকরের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত অভিজ্ঞতা না থাকলে কোনো প্রার্থী সেই পদের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। হিমাচল প্রদেশ স্কুল শিক্ষা বোর্ডের একটি কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার পদের নিয়োগ বাতিল করে আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেয়।
যোগ্যতা বনাম অভিজ্ঞতার আইনি লড়াই
আদালত জানায়, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশনে ‘এম.টেক’ ডিগ্রি থাকলেও নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পাঁচ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা ছিল না। আবেদন করার সময় তার মাত্র এক বছরের অভিজ্ঞতা ছিল। সুপ্রিম কোর্ট জোর দিয়ে বলেছে যে, উচ্চতর ডিগ্রিকে অভিজ্ঞতার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। যদি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে অভিজ্ঞতাকে ‘আবশ্যিক শর্ত’ হিসেবে রাখা হয়, তবে তা পূরণ করা বাধ্যতামূলক।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার গুরুত্ব
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি কর্মসংস্থানে নিয়োগ বিধি লঙ্ঘন করে কোনো নিয়োগ দেওয়া হলে তা ‘অন্তর্নিহিত অবৈধতা’ হিসেবে গণ্য হবে। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, যখন নিয়োগ প্রক্রিয়াই ত্রুটিপূর্ণ হয়, তখন সেই নিয়োগ বাতিল করাই সঠিক পথ। বিশেষায়িত কাজের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার গুরুত্বকে কোনোভাবেই একাডেমিক ডিগ্রি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। এই রায় ভবিষ্যতে সমস্ত সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি শক্ত আইনি নজির হিসেবে কাজ করবে।
এক ঝলকে
- সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে উচ্চতর ডিগ্রির চেয়েও নির্ধারিত অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
- হিমাচল প্রদেশের এক হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের নিয়োগ বাতিল করে এই রায় দেওয়া হয়েছে।
- পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতার বদলে মাত্র এক বছরের অভিজ্ঞতা থাকায় এম.টেক ডিগ্রিধারী প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
- নিয়োগ বিধি লঙ্ঘন করে কোনো চাকরি প্রদানকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে অভিহিত করেছে আদালত।