প্রধানমন্ত্রীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ সম্বোধন করে তীব্র বিতর্কে খাড়গে, দেশজুড়ে বিজেপির প্রতিবাদ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। খাড়গে প্রধানমন্ত্রীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে আক্রমণ করেছেন—এমন অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের শীর্ষ নেতারা এই মন্তব্যকে কেবল প্রধানমন্ত্রীর পদের অবমাননা নয়, বরং দেশের কোটি কোটি মানুষের অপমান হিসেবে দেখছেন। যদিও খাড়গে ইতিমধ্যেই তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তবে তাতে শান্ত হয়নি গেরুয়া শিবির।
বিজেপির পাল্টা তোপ ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি
বিজেপি নেতা কে. অন্নামালাই এই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়ে খাড়গেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদের মুখে এ ধরনের ‘নোংরা’ ভাষা শোভা পায় না। অন্যদিকে, বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র অভিযোগ করেছেন যে এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং রাহুল গান্ধীর প্রভাবে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত মানসিকতার প্রতিফলন। বিজেপি নেতারা আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, অতীতে কংগ্রেস নেতৃত্ব ওসামা বিন লাদেনের মতো জঙ্গিকে ‘জি’ বলে সম্বোধন করলেও আজ দেশের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করছে।
রাজনৈতিক উত্তাপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
নির্বাচনকালীন আবহে এই বাগযুদ্ধ রাজনৈতিক অঙ্গনকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। শিবরাজ সিং চৌহান ও পীযূষ গোয়েলের মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা দাবি করেছেন, রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়লেই কংগ্রেস নেতারা কুরুচিকর ভাষার আশ্রয় নেন। বিশেষ করে ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে এই ইস্যুটিকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসের ‘বিষাক্ত রাজনীতি’ জনসমক্ষে তুলে ধরার কৌশল নিয়েছে বিজেপি। এই বিতর্কের ফলে দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে তিক্ততা আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলার অভিযোগে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড়।
- বিজেপি খাড়গের এই মন্তব্যকে প্রধানমন্ত্রীর পদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা এবং দেশবাসীর জন্য অবমাননাকর বলে দাবি করেছে।
- সম্বিত পাত্র ও অন্নামালাইসহ বিজেপি নেতৃত্ব কংগ্রেস সভাপতির কাছ থেকে প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন।
- নির্বাচন ২০২৬-এর আগে এই ঘটনা কংগ্রেস ও বিজেপির রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করে তুলেছে।