মমতা সরকারের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর মোদী, ঝাড়গ্রামে দাঁড়িয়ে কটাক্ষ অভিষেকের

ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ তুঙ্গে উঠেছে। মঙ্গলবার ঝাড়গ্রামের এক জনসভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ‘সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর’ হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর দাবি, যে ঝাড়গ্রামে একসময় দিনের আলো থাকতেই মানুষ ঘরের বাইরে বেরোতে ভয় পেতেন, সেখানে খোদ প্রধানমন্ত্রী রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন—এটাই রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞাপন।

নিরাপত্তা ও রাজনীতি

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সভা থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর সফরের কারণে তাঁর হেলিকপ্টার নামতে দেওয়া হয়নি। এক আদিবাসী মুখ্যমন্ত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে রেখে প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়ি খাওয়ার নাটক করেছেন বলে তোপ দাগেন তিনি। তাঁর মতে, ২০১১ সালের আগের পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলে কোনো প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার নামার সাহস পেত না; কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনামলে শান্তি ফিরে আসাতেই এটি সম্ভব হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে পালটা জবাব

বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপির ক্রমাগত সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে অভিষেক বলেন, নরেন্দ্র মোদীকে তাঁর নিজের রাজ্য গুজরাট বা মধ্যপ্রদেশে কখনও এভাবে সাধারণ মানুষের মাঝে মিশে গিয়ে খাবার খেতে দেখা যায় না। ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর এই নির্ভয় অবস্থানই প্রমাণ করে যে বাংলার পরিস্থিতি বিজেপির শাসিত রাজ্যগুলোর চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে জঙ্গলমহলের নিরাপত্তা ইস্যুকে হাতিয়ার করে প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর নিজের কাজের মাধ্যমেই বিঁধতে চাইছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

এক ঝলকে

  • প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে মমতা সরকারের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর’ বলে কটাক্ষ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়াকে রাজ্যের উন্নত আইনশৃঙ্খলার প্রমাণ হিসেবে দাবি করেছেন তিনি।
  • ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের হেলিকপ্টার আটকে রাখার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ আনা হয়েছে।
  • জঙ্গলমহলে শান্তি প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব তৃণমূল সরকারের দাবি করে বিজেপির প্রচারের বিরোধিতা করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *