বরোদার এমএসইউ-তে বাধ্যতামূলক ‘সঙ্ঘ-পাঠ’! সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত আরএসএস-এর ইতিহাস ও ‘মোদী তত্ত্ব’
শিক্ষার আঙিনায় এবার এক বড়সড় বদল। বরোদার প্রখ্যাত মহারাজা সায়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয় (এমএসইউ) তাদের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের পাঠ্যক্রমে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর ইতিহাস এবং বর্তমান প্রশাসনের মূল নীতিমালার ওপর একটি বাধ্যতামূলক কোর্স চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন শিক্ষানীতি (NEP) অনুসরণ করে নেওয়া এই পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিলেবাসে কী কী থাকছে?
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়া স্নাতক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য এই কোর্সটি আবশ্যিক করা হয়েছে। এর মূল বিষয়বস্তুগুলি হলো:
- আরএসএস-এর ইতিহাস: সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা, বিবর্তন এবং ভারতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা।
- সঙ্ঘের সমাজসেবা: দেশের বিভিন্ন দুর্যোগ ও সামাজিক সংস্কারে আরএসএস-এর অবদান নিয়ে বিশেষ মডিউল।
- মোদী তত্ত্ব (Modi Tatva): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের মূল নীতি, সুশাসন এবং ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র মতো ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্টগুলোর বিশ্লেষণ।
- হিন্দুত্ব ও দেশপ্রেম: ভারতীয় সংস্কৃতির ধারক হিসেবে হিন্দুত্ব এবং জাতীয়তাবাদের ধারণা।
কেন এই উদ্যোগ?
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষার্থীদের সমসাময়িক ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নয়া শিক্ষাকাঠামো অনুযায়ী, পড়ুয়ারা যাতে কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং দেশের বর্তমান প্রশাসনিক আদর্শ ও প্রধান সংগঠনগুলোর প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারে, সেটাই এই কোর্সের লক্ষ্য।
বিতর্ক ও আলোচনা
পাঠ্যক্রমে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শের ছায়া থাকা উচিত কি না, তা নিয়ে শিক্ষামহলে দ্বিমত তৈরি হয়েছে। একদিকে যেমন অনেকে মনে করছেন যে সঙ্ঘের ইতিহাস জানা শিক্ষার্থীদের একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেবে, অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশ একে ‘শিক্ষার গৈরিকীকরণ’ হিসেবেও দেখছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, এই কোর্সটি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই পড়ানো হবে।
গুজরাটের অন্যতম প্রাচীন ও সম্মানীয় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পরিবর্তন আগামী দিনে ভারতের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাসূচিতেও প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটাই দেখার।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।