ট্রাম্পের ‘শুল্ক হানা’: ইউরোপীয় গাড়িতে ২৫ শতাংশ ট্যাক্স, ইরান ইস্যুতে ক্ষুব্ধ হোয়াইট হাউস!

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ময়দানে ফের এক বড়সড় ‘বোমা’ ফাটালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প এবার সরাসরি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) ওপর চড়া বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা গাড়ি ও ট্রাকের ওপর শুল্কের হার ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে একলাফে ২৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

ইউরোপের ওপর কেন রুষ্ট ট্রাম্প?

২০২৬ সালের শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইউরোপের প্রধান মিত্রদের (যেমন জার্মানি, ইতালি এবং স্পেন) সক্রিয় সমর্থন চেয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ন্যাটো (NATO)-ভুক্ত এই দেশগুলো সরাসরি সেনা মোতায়েন বা যুদ্ধে অংশগ্রহণে অনীহা প্রকাশ করায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর অসন্তোষ গোপন করেননি। ট্রাম্পের অভিযোগ, ইউরোপীয় দেশগুলো কেবল বাণিজ্যের সুবিধা নিতে চায় কিন্তু প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ায় না। তাঁর সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি সরাসরি বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগের বাণিজ্য চুক্তির শর্তগুলো পুরোপুরি মেনে চলছে না।

শুল্কের প্রভাব ও গাড়ি শিল্পে আতঙ্ক

আগামী সপ্তাহ থেকেই এই নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর হতে চলেছে। এর ফলে:

  • জার্মান অটোমোবাইল শিল্পে ধস: ভক্সওয়াগন, বিএমডব্লিউ এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জের মতো বিশ্বখ্যাত গাড়ি সংস্থাগুলো সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
  • আমেরিকায় দাম বাড়বে: ইউরোপ থেকে আমদানিকৃত বিলাসবহুল গাড়ি ও বাণিজ্যিক ট্রাকের দাম সাধারণ মার্কিন ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
  • ম্যাক ইন ইউএসএ-তে ছাড়: ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে সব ইউরোপীয় সংস্থা আমেরিকার কারখানায় গাড়ি তৈরি করবে, তাদের ওপর এই চড়া শুল্ক লাগু হবে না। মূলত ইউরোপীয় সংস্থাগুলোকে আমেরিকায় প্রোডাকশন ইউনিট স্থানান্তরে বাধ্য করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।

ইউরোপের পালটা হুঁশিয়ারি

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ব্রাসেলস থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির প্রধান বার্নড ল্যাঞ্জ এই সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই পথে হাঁটে, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নও পাল্টা পদক্ষেপ নেবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে একটি ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ (Trade War) শুরুর মেঘ ঘনাচ্ছে।

অর্থনৈতিক অস্থিরতা

ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই এই বাণিজ্যিক সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে এক টালমাটাল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। সোমবার বাজার খুললেই অটোমোবাইল সেক্টরের শেয়ারে বড়সড় পতনের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

এই বাণিজ্যিক সংঘাত কি শেষ পর্যন্ত আটলান্টিক মহাসাগরের দুই তীরের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বে ফাটল ধরাবে, নাকি এটি কেবলই ট্রাম্পের একটি দরাদরি করার কৌশল (Bargaining Chip)? আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *